সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ঢাকা
৯ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৯ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের মক্কায় গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম দেশটির দেওয়া বন্দি তালিকায় ছিল। তবে ওই তালিকায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঢাকা ও রিয়াদে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দ্য ডেইলি স্টার জানতে পেরেছে, গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ওই অঞ্চলে বন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছিল।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আমাদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। তাতে ওই দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না।’
তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘শুধু ওই তালিকা দেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের নাম মেলানো সম্ভব ছিল না।’
বন্দিদের একটি তালিকা পেলেই সেখানে থাকা প্রত্যেকের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কনস্যুলার সেবা দিতে আমরা নিয়মিত সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শন করি। এমন অনেক ঘটনায় সফল হয়েছি, যেখানে বন্দিদের সাজা কমানো সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ওই দুই বাংলাদেশির কেউ কনস্যুলার সহায়তা চেয়ে তাদের কাছে আবেদন করেননি।
পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত শনিবার বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরব বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
ঘটনাটি সম্পর্কে বাংলাদেশ এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পায়নি। এরপর রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠকে ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
এর আগে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির (নোট ভারবাল) অনুলিপি রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক বার্তায় জানায়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে।
এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করে, বিচার করে, মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং সেই সাজা কার্যকর করে।
গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরই বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পারে।
ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এর আগে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বন্দির একটি তালিকা বাংলাদেশকে দিয়েছিল। ওই তালিকায় এই দুই বাংলাদেশির নামও ছিল।
তিনি বলেন, ‘একটি মিশনের পক্ষে প্রতিটি মামলার খোঁজখবর রাখা অসম্ভব। এ ধরনের তালিকা পেলে আমরা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি ও জরুরি মামলাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিতে বলেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোথায় ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করতেই এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
