ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, রাষ্ট্র আমাদের সবার। গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন। ছায়া সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সচেতনতার বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের ৮০ শতাংশই জনসচেতনতার ওপর নির্ভর করে। তবে তাই বলে সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং তিনি নিজেই এর নিয়মিত মনিটরিং করছেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো মুহূর্তে হাসপাতাল কিংবা আবাসিক এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যেতে পারেন—এমন নির্দেশনার পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
শহরে প্লাস্টিক ও পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে সৃষ্টি হওয়া কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম নগরবাসীকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানান।
এ সময় বিএফডিসির মঞ্চে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে আদায় করা জরিমানার অর্থ ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের অসহায় পরিবারকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেলে দ্রুততম সময়ে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আমদানির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চিকিৎসার ব্যয়ভার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে অংশগ্রহণ করে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং বিরোধী দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কবি কাজী নজরুল সরকারি কলেজ।
প্রতিযোগিতায় সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ বিজয়ী হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি ও সনদ বিতরণ করা হয়।
এএসএস/আরএএস
