আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন দলীয় কর্মীদের তরুণ ভারতীয়দের ‘সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের’ সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নৈরাজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতীয় জনসংঘের (বিজেপির পূর্বসূরি সংগঠন) ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন নবীন বলেন, দলের প্রসারের পাশাপাশি এর মূল আদর্শের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার বজায় রাখা জরুরি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন, “পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, আদর্শের পাশাপাশি এই নতুন প্রজন্ম যেন দেশের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের শিকড়ের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত থাকে।” তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা দেখছি, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কীভাবে নৈরাজ্যকে কাজে লাগানো হচ্ছে।”
নীতিন নবীন বলেন, জনসংঘের রেখে যাওয়া আদর্শ দলীয় কর্মীদের- দেশের ১৪০ কোটি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি দলের বিকাশের ভিত্তি স্থাপনের জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি এবং বিজেপি ও জনসংঘের অন্যান্য নেতাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
জনসংঘের শুরুর দিকের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে নীতিন নবীন জানান, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর যখন এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের কাছে রসিদ ছাপানোর মতো অর্থ, কোনও কার্যালয় কিংবা যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। তবুও, এই সংগঠনের নেতারা তাদের আদর্শ প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি- জনসংঘের বর্তমান প্রজন্মের কর্মীদের আহ্বান জানান, তাঁদের পূর্বসূরিদের দেখা স্বপ্ন- ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে তারাও যেন একই রকম সংকল্প নিয়ে চলেন। নীতিন নবীন বলেন, আজকের দলীয় কর্মীরা অনেক অনুকূল পরিস্থিতি পেয়েছেন। বিজেপির আদর্শ এখন গ্রাম ও পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে গিয়েছে এবং দলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এর ফলে দলের শক্তি আরও বাড়ানোর দায়িত্ব এখন তাদের কাঁধেই বর্তায়।
বিজেপি সভাপতি নরেন্দ্র মোদি সরকারের দরিদ্র-বান্ধব প্রকল্পগুলোর নেপথ্যে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘অন্ত্যোদয়’ দর্শনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি আগের বিভিন্ন প্রচেষ্টার সঙ্গে বর্তমান উদ্যোগগুলোর তুলনা করে বলেন, অতীতের সেই প্রচেষ্টাগুলো দরিদ্র মানুষের মুখ থেকে “দারিদ্র্যের ছাপ মুছে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছিল”। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নবীন দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানান, তাঁরা যেন দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের সরলতা, নিষ্ঠা ও সংগ্রাম থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমি এই শপথ নিচ্ছি যে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি, সংগ্রাম এবং তাঁরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা বিজেপিকে গড়ে তুলতে ও এগিয়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকব।”
