আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয় নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
১৮ অক্টোবর রোববার ‘রেডিও নর্থ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে নিজের জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন।
পরবর্তী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘না, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব না।’
সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও আবিগদোর লিবারম্যানের সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এসব নেতার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে।
নেতানিয়াহু বলেন, আইজেনকোটের পক্ষে মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবির সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদে ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে এই দুই নেতার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, যারা আত্মসমর্পণকারী ও অকার্যকর সরকার চান, তারা আইজেনকোটকে ভোট দিতে পারেন। তার অভিযোগ, এমন সরকার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কা মোকাবিলায় আইজেনকোট কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন না বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, আইজেনকোট অতীতে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে কথা বলেছেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ওপর হামলাকে ভুল সিদ্ধান্ত বলেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আইজেনকোটের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে এবং দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকির মুখে আপস করা যাবে না।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বারের করা মানহানি মামলার বিষয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। বারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি নথি অনলাইনেও পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার মাত্র দুই দিন আগেও রোনেন বার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, যেখানে সুবিধার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল।
নেতানিয়াহু বলেন, রোনেন বার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা বলে আসছেন। তবে বারের বিরুদ্ধে তাঁর এসব অভিযোগকে স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
এটিভি/এসআইআর
