দেশব্যাপী হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে একযোগে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রণয়ন করা ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ অনুযায়ী সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাইয়ের কাজ পরিচালনা করছেন।
এ কর্মসূচিতে গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবার, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত নারী অভিবাসী এবং শিশু বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য রয়েছে এমন পরিবারগুলোও এই সুবিধার আওতায় আসবে। ভূমিহীন বলতে এমন পরিবারগুলোকে বোঝানো হয়েছে যাদের কোনো কৃষিজমি নেই এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত مستحق (সুবিধাভোগী) পরিবারগুলো চিহ্নিত করতে নীতিমালায় আটটি সুনির্দিষ্ট বহির্ভুক্তির শর্ত বা ‘নেগেটিভ লিস্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার বেশি স্কোর থাকা পরিবার, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরিজীবী বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং নিয়মিত সরকারি পেনশনভোগী পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে। এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ বা সঞ্চয় থাকলে, বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে, নিয়মিত করদাতা হলে এবং বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। একই সঙ্গে অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এই সহায়তা মিলবে না।
তথ্য সংগ্রহের এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ কোনো ধরনের অর্থ দাবি করলে তা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের কোনো প্রতারণার চেষ্টা বা অর্থ দাবির ঘটনা ঘটলে তা অবিলম্বে ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধ ও শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই নগদ সহায়তা বিতরণ করা হবে। ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, টিআইএন, সঞ্চয়পত্র এবং সরকারি কর্মচারীদের ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দ্বৈততা যাচাই করা হচ্ছে। বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচিত উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
