বর্ধমানের একটি নয়, ৩০ টিরও বেশি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার করতেন ধৃত ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সায়দুলকে। দফায় দফায় তাঁকে জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, ভুয়ো ডিগ্রি হাসিল করতে বর্ধমানেরই আরও এক ‘চিকিৎসক’-এর বড় ভূমিকা ছিল বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ‘দাসবাবু’ নামে সেই চিকিৎসকের ডিগ্রি নিয়েও সন্দেহ রয়েছে অনেকের। সেই দাসবাবুর হাত মাথায় থাকায় ডিগ্রি হাসিল থেকে চুটিয়ে অস্ত্রোপচার করার সাম্রাজ্য গড়েছিল সায়দুল। তাঁকে জেরা করে ‘দাসবাবু’-কে নিয়েও খোঁজ খবর শুরু করেছে পুলিশ। আরও বড় মাথা এই চক্রের পিছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, পুলিশি হেফাজতে সায়দুল ওই দাসবাবুর কথা জানিয়েছেন। সেই না কি তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন ধৃত সায়দুল।
বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল চার বছরের এক শিশুর। অস্ত্রোপচার করেছিলেন সায়দুল। সেই ঘটনার পরই দুবাই পালিয়ে যান তিনি। স্ত্রী অলিভিয়াকে দুবাই নিয়ে যেতে দিল্লি ফিরতেই ধরা পড়ে যায় সায়দুল। লুকআউট নোটিস জারি হওয়ায় বিমানবন্দরে ধরা পড়েন। বর্ধমান থানার পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পাশাপাশি, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে খুনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে মামলায়। ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দপ্তরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। সায়দুল ভুয়ো চিকিৎসক বলে জানতে পারেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, ঘটনার তদন্তে নেমে রাজ্যে আরও কয়েকজন ভুয়ো চিকিৎসকের হদিশ সামনে আসে। কীভাবে তাঁরা ভুয়ো ডিগ্রি পেয়েছে, কীভাবে মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে তাও তদন্ত করে দেখছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।
সূত্রের খবর, পুলিশি হেফাজতে সায়দুল ওই দাসবাবুর কথা জানিয়েছেন। সেই না কি তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন ধৃত সায়দুল। শুধু তাই নয়, দাসবাবুর হাতে ধরে ভুয়ো ডিগ্রি পাইয়ে দেওয়া থেকে ‘চিকিৎসক’ বানিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ওই দাসবাবুর থেকে কম টাকায় সায়দুল অস্ত্রোপচার করায় রোজগারে টান পড়েছিল। তাই তাঁকে ফাঁসিয়েছে বলে দাবি। সায়দুলকে জেরায় দাবি করেছে, দাসবাবুও ভুয়ো ডাক্তার। কিন্তু টাকা দিয়ে সব ঠিক করে নিয়েছেন। সায়দুল প্র্যাকটিস শুরু করার পর কম টাকা নেওয়ার কারণে শহরের বহু নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে রোজগার কমে দাসবাবুর। এদিকে, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে অস্ত্রোপচার করে মোটা টাকা কামায় সায়দুল। স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা স্বাস্থ্যসাথী থেকে পেয়েছেন। সায়দুলকে জেরা করে পাওয়া তথ্য যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
