মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কমিশনার মরহুম আব্দুস সাত্তার সাহেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ফ্রান্স প্রবাসী জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কমিউনিটি নেতা লুলু আহমেদের ভাতিজা মরহুম আবুল খায়ের লিটন দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ফ্রান্সে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃতুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। উনার অকাল মৃত্যুে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে
মরহুম আবুল খায়ের লিটনের মরদেহ রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তার মরদেহ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক ও প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনে আজীবন সদস্য বেলাল আহমদ, মরহুমের আত্মীয় বিশিষ্ট আইনজীবী মো. ইউসুফ খান বিপ্লব এবং উত্তরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জালালাবাদ এর আজীবন সদস্য মোঃ মোরশেদ. মোরশেদ ইকবাল শাহবাদী এবং মরহুমের ফুফাতো ভাই রাশেদ নাবিল।
জানা যায়, মরহুম আবুল খায়ের লিটন গত ১৯ অক্টোবর ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বৈধ কাগজপত্রের ব্যবস্থা করতে না পারায় তিনি প্রবাসী হিসেবে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অথচ দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রেখেছে।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের মরহুম আবুল খায়ের লিটনের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।
এদিকে প্রবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রশ্ন তুলে বেলাল আহমদ বলেন, বিদেশে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে আনার পর দাফনসহায়তার জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে অন্যান্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, বিএমইটি নিবন্ধন কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রের অভাবে অনেক প্রবাসীর পরিবার এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে ।
তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি বৈধ বা অবৈধ যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, তাঁর জাতীয়তা ও মানবিক অধিকার যেন উপেক্ষিত না হয়।বৈধ কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে কোনো প্রবাসীর পরিবার যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য একটি মানবিক ও সহজতর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের কোনো প্রবাসী বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পরিবারকে অসহায় বোধ করার প্রয়োজন নেই। তাঁরা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন বা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, সামর্থ্য ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনা এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
মরহুমের জানাজার নামাজ রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় গাজিটেকা বারইগ্রাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে সম্মিলিত কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
