ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে কখনো তৈরি হয় নতুন তারকার গল্প, কখনো অভিজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সাধনার স্বীকৃতি মেলে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনেও দেখা গেল তেমনই দুটি ভিন্ন চিত্র। রাজশাহীতে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন ২১ বছর বয়সী নাঈম আহমেদ। অন্যদিকে কক্সবাজারে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিরল এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন অভিজ্ঞ শুভাগত হোম। একই দিনে ব্যাটারদের দাপটে জমে উঠল চার ভেন্যুর লড়াই!
রাজশাহীতে বরিশালের বিপক্ষে নাঈম যেন নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র ষষ্ঠ ম্যাচ খেলতে নেমেই তুলে নিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু তার লক্ষ্য যে কেবল তিন অঙ্কে পৌঁছানো নয়, সেটি বোঝা গেছে ইনিংসের পরের অংশে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়ে আজ দিন শেষ করেছেন ১৭৬ রানে অপরাজিত থেকে। এখন সামনে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি।
নাঈমের এই ইনিংস রাজশাহীকে এনে দিয়েছে ম্যাচে শক্ত অবস্থান। ১৫২ রানের জুটি গড়ে সাব্বির রহমানও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ১১৮ বলে ৮৬ রান করে ফিরেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। পরে এসএম মেহেরবকে নিয়ে নাঈমের অবিচ্ছিন্ন ১০৪ রানের জুটি রাজশাহীর সংগ্রহকে নিয়ে যায় ৪২৪-এ। বরিশালের প্রথম ইনিংসের ২২৯ রানের জবাবে তাদের লিড এখন ১৯৫।
নাঈমের ব্যাটিংয়ে যেমন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি কক্সবাজারে শুভাগত হোমের অর্জন ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ময়মনসিংহের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে ৭১ রানের ইনিংস খেলার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও আগে থেকেই অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করার কৃতিত্ব এখন তার।
দলের কঠিন সময়ে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন শুভাগত। দিনের শুরুতেই দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ময়মনসিংহ। সেখান থেকে রকিবুল হাসানকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ১২৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। রকিবুলের ব্যাট থেকে আসে ৬১ রান। দুজনের লড়াইয়ে ময়মনসিংহের ইনিংস থামে ৩৮৭ রানে।
এদিকে রংপুরের হয়ে ধারাবাহিকতার আরেকটি নজির গড়েছেন মিম মোসাদ্দেক। টানা তিন ম্যাচে প্রথম ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেছেন তিনি। এবার সিলেটের বিপক্ষে করেছেন ৫৯। অধিনায়ক আকবর আলিও টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। তার সংগ্রহ ৭৪ রান। কিন্তু তিন ম্যাচে তিনটি ফিফটি পেয়েও সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছেন না এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
রংপুরের ইনিংস বড় না হলেও বল হাতে সিলেটের নাঈম আহমেদ ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছেন চার উইকেট। এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়েই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেছেন তিনি। নাসুম আহমেদের শিকার তিন উইকেট।
খুলনা-চট্টগ্রাম ম্যাচেও ব্যাট ও বলের লড়াই ছিল বেশ উপভোগ্য। চট্টগ্রামের হয়ে শাহাদাত হোসেন, ইরফান শুক্কুর ও শামীম হোসেন ফিফটি করলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। খুলনার শেখ পারভেজ রহমান চার উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এনামুল হক ৫৩ রান করার পর এখন দলের আশা আফিফ হোসেনকে ঘিরে। ৫৮ রানে অপরাজিত এই ব্যাটার দলকে আরও বড় লিড এনে দেওয়ার অপেক্ষায়।
জাতীয় লিগের এই রাউন্ডে তাই শুধু দলীয় ফলাফল নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও হয়ে উঠেছে বড় আকর্ষণ। নাঈমের সামনে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি, শুভাগতর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে দেশের ক্রিকেটে ঐতিহাসিক কীর্তি। আকবর ও মিমের ধারাবাহিকতা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণের লড়াই কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ!
