এআইয়ের যুগে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্র, বাড়ছে বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা থেকে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত কমে আসছে সময়। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে বাড়ছে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ পরিচালক ও সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রায়াসের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে এমন এআই ব্যবস্থা মোতায়েন হতে পারে, যা মানুষের সামান্য কিংবা কোনো সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে এআইনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থার প্রথম বড় পরিসরের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই হামলা হয় এক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে। এআইয়ের সহায়তায় হামলার সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিনের পরিবর্তে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে প্যালান্টিরের তৈরি ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেম’। এটি গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে, নির্ভরযোগ্যতার মাত্রা নির্ধারণ করে এবং হামলার জন্য অস্ত্র ও করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্ব থাকে মানুষের হাতে। এই ব্যবস্থায় অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লডও ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ম্যাভেন প্রকল্পের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় সামরিক অভিযানে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ‘হাবসোরা’ অবকাঠামো এবং ‘ল্যাভেন্ডার’ মানুষকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাভেন্ডার প্রায় ৩৭ হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল।
তবে এআইনির্ভর যুদ্ধের ঝুঁকিও সামনে এসেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। তাদের অধিকাংশই শিশু। পরবর্তী তদন্তে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে বিদ্যালয়টিকে এআই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্বাচন করেছিল, এমন সিদ্ধান্তে প্রকাশ্য প্রতিবেদনগুলো নিশ্চিতভাবে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, এআই কোনো ব্যক্তিকে যোদ্ধা হিসেবে ভুল শনাক্ত করলে কিংবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সুপারিশ করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কোনো লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এআইয়ের উচ্চ নির্ভরযোগ্যতার স্কোর থাকলেই সেটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু, এমন নিশ্চয়তা নেই।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মানবিক, আইনি ও নৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি এসব অস্ত্রের ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ এবং শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
