সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরানে নজরদারি চালানোর একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি আজ রোববার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেখানে এএইচ-৬ আই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের আওতাধীন এলাকায় পড়েছে। আর এ ঘটনায় হেলিকপ্টারের দুজন ক্রু নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে গতকাল এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা সৌদি আরবের নাজরানে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত করেছেন। যেটি তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল।
ইয়াহিয়া সারের এ দাবির প্রায় একদিন পর সৌদি আরব জানাল তাদের একটি নজরদারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও তারা এর কারণ উল্লেখ করেনি।
তবে সৌদি জোটের মুখপাত্র হুথি মুখপাত্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দাবির জবাব দিয়েছেন। তিনি সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ করে বলেছেন, “আপনি দাবি করেছেন আপনারা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছেন। কিন্তু এটি শিগগিরই যুদ্ধে যুক্ত হবে।”
এদিকে গত জুলাই থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। নতুন সংঘাতের শুরু থেকে সৌদি হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে হুথিরা রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ তেল অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালায়।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানাসহ একাধিক প্রদেশ দখল করে। এরপরই দেশটিতে শুরু হয় শতাব্দির অন্যতম খারাপ গৃহযুদ্ধ। হুথিদের সানা থেকে হটিয়ে দিতে ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
এরপর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এরপর থেকে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে এ যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। নতুন সংঘাত শুরুর পর ইয়েমেন ও সৌদিতে শতশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
