আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনা এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হতে আর বেশি দেরি নেই বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত ও আমেরিকা একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তি আমেরিকার আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলির তুলনায় অনেকটাই আলাদা হবে’, এমনটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত চুক্তি করতে চায়। আমরাও চুক্তি করব। আমরা প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।’ তবে চুক্তির শর্তাবলি বা কোন কোন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা গত এক বছর ধরেই চলছে। তার মধ্যেই মার্কিন শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের জেরে আলোচনায় নতুন কিছু বিষয় উঠে এসেছে।
সেই বিষয়গুলি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে দুই দেশ। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রুবিও জানান, চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দুই দেশ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। অল্প কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি রয়েছে।
রুবিওর কথায়, ‘চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব, আমরা এখন সেই জায়গাতেই রয়েছি। চূড়ান্ত করার জন্য অল্প কয়েকটি বিষয় বাকি রয়েছে।’
দ্রুত সেই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এরপরেই দুই দেশের নেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব।
এর আগে নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছিলেন, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই মিটে গিয়েছে।
দুই দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। একই সুর শোনা গিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যেও। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
সব মিলিয়ে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক একাধিক মন্তব্যে আশার আলো দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। তবে চুক্তিটি ঠিক কী ধরনের হবে এবং তার শর্তাবলি কী হতে চলেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
