ভারতের বিনোদনজগতে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অভিনেতা সালমান খান ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ ভজনশিল্পী অনুপ জালোটা। তাঁর মতে, চলমান বিরোধের অবসান ঘটাতে সালমানের উচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর বলিউডের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সালমান খানকে ঘিরে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর হুমকির বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে। তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনোদনজগতের একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্ব।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপ জালোটা বলেন, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের কারণে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মধ্যে সালমান খানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁর মতে, এই বিরোধের অবসানে সালমানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুপ জালোটা জানান, পুরো পরিস্থিতি তাঁকে ব্যথিত করেছে। তাঁর বিশ্বাস, সালমান যদি ক্ষমা চেয়ে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন, তাহলে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর পথ তৈরি হতে পারে। বিষয়টিকে তিনি দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এ ধরনের পরামর্শ অবশ্য এবারই প্রথম দেননি এই ভজনশিল্পী। এর আগেও তিনি সালমানকে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মতে, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে গুরুত্ব না দিলে বিরোধের সমাধান কঠিন হতে পারে।
এদিকে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনার পর অভিনেতা সুনীল শেট্টিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে অন্য শিল্পীদের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ও অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়। তবে ওই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সালমান খান ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের বিরোধের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অনুপ জালোটার মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার পর বলিউডের শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
