নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসায় দেশজুড়ে শিক্ষক সমাজে তীব্র অনিশ্চয়তা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতনকাঠামোতে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, সাম্প্রতিক সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবরের বেতন নবম জাতীয় পে-স্কেলের ভিত্তিতে পাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে না। এর ফলে সরকারি বেতনস্কেলের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কীভাবে এবং কবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এই এমপিও ব্যবস্থার আওতাভুক্ত রয়েছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনকাঠামো প্রজ্ঞাপন জারিতে এই বিলম্বের পেছনে প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত জটিলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বেতন হিসাব ও ছাড় করার প্রক্রিয়াটি এখনও অনেকাংশেই অ্যানালগ বা হাতে-কলমে সম্পন্ন করতে হয়। এই কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় গড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগের মুখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র স্পষ্ট করেছে যে, এসংক্রান্ত চূড়ান্ত আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারির এখতিয়ার সম্পূর্ণ অর্থ বিভাগের। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই আদেশ জারি হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তাঁরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি না করলে মাঠপর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
