দোহা,২০ অক্টোবর-কাতারের রাজধানী দোহায় তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে একটি স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। চারটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের মঙ্গলবার বিকেলে দোহার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
এই যৌথ উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আয়োজক দেশ কাতার নিজেদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি জানান, দেশটি শিগগিরই নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করবে। তিনি আরও বলেন, কাতার নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা ও সাইবার আক্রমণ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে কাতার খুব শিগগিরই একটি নতুন অংশীদারত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কাতারের এই উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সংঘাতের প্রভাবে কাতারের জ্বালানি খাত ও সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত্রুতামূলক সামরিক তৎপরতা শুরুর পরপরই কাতার তাদের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কমপ্লেক্স ‘রাস লাফান’-এর একটি বড় অংশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬
