ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের ২৪টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতি, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন তারা।
ডিসিইউ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে প্রকাশিত পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। এরপর ভিন্ন সময়ে প্রকাশ করা হবে বিজ্ঞান অনুষদের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার সময়সূচি। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়ে পূর্বের ন্যায় দীর্ঘসূত্রিতায় ডিসিইউ প্রশাসনের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিসিইউ প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুল নাহিদ বলেন, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসন তিন মাস লাগিয়ে কেন আপনারা প্রথম বর্ষের পরীক্ষা নেবেন? তাহলে রোডম্যাপ অনুযায়ী ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেবে কীভাবে? এমনি আমরা সেশনজটে আছি। আপনারা নতুন প্রশাসন এসেছেন, ভেবেছিলাম সেশনজট হবে না, কিন্তু এখন তো দেখতে পাচ্ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে তিন মাস লাগিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হতো। একইভাবে এখন নেওয়া হচ্ছে। আগে ছিল অধিভুক্ত ৭ কলেজ এখন সংযুক্ত ৭ কলেজ। আর কোনো কিছুই তো পরিবর্তন হলো না।
এ বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বলেন,‘৩ নভেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের লিখিত পরীক্ষা চলবে দুই মাস সাত দিন। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় মাস লেগে যেতে পারে। পরীক্ষার মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ দিনের বিরতি পড়ায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। এতে সেশনজট, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রুটিন পুনর্বিবেচনা করে স্বল্প সময়ে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে ডিসিইউ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শহিদুল্লাহ বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় কলেজগুলো বন্ধ থাকে। এ কারণে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগছে। বিজ্ঞান বিভাগের যে-সব বিষয়ের পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা হলে ছুটি তুলনামূলক কম থাকায় কম সময়ে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও তাঁদের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।’
এইচএস
