ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের সাজা বাতিল করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শ্রীলঙ্কা সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আহ্বানের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে সৌদি আরবে একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
দুই দেশের নাগরিকদের নিয়ে সৌদি আরবের এই দুই ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুই মামলার অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া ছিল ভিন্ন।
বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজন শিবরাজাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত। ২৭ বছর বয়সী এই প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ডের রায় গত সেপ্টেম্বরে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তার সাজা মওকুফের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে শ্রীলঙ্কা সরকার।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র জানান, সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট শিবরাজের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছেন। এ উদ্যোগের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পর শিবরাজের বিরুদ্ধে আর কোনো আইনি কার্যক্রম চলবে কি না, তিনি কারাগারে থাকবেন কি না কিংবা থাকলে কত দিন—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কার্যকর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
অন্যদিকে, সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করার পর তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় এবং মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধের গুরুতর প্রকৃতি এবং পবিত্র স্থান ও সময়ের মর্যাদা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় রায় বহাল থাকার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতো না বাংলাদেশ
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে জানতো না বাংলাদেশ সরকার। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
বিজ্ঞাপন
এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
শ্রীলঙ্কার নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘটনায় কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা সামনে এসেছে। অন্যদিকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ।
তাছাড়া সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসী নারী শ্রমিকরা প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এসব ক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তা কখনোই জানা যায় না।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বিবিসি, গাল্ফ নিউজ
এমএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
