প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের বাসিন্দা সুইটি আক্তার। দেড় লক্ষ টাকা ধার করে একটু রোজগারের আশায় মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন দিনমজুর বাবা ফজল আক্তার। মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। টাকা পয়সাও পাঠানো শুরু করেছিল সুইটি। গত ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে কথা হয় বাবার। একদিন পরই সব শেষ। আচমকা সমাজমাধ্যমে বাবা জানতে পারেন, মেয়েকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কী অপরাধ? কবে ফাঁসি দেওয়া হল? কিছুই জানেন না ফজল। উত্তর চেয়েও মিলছে না।
জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের বাসিন্দা সুইটি আক্তার (২৫)। তাঁর বাবা জানান, ফোন করে জানানো হয়েছিল মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকমাসের মধ্যেই মুক্তি মিলবে। কিন্তু হঠাৎ মেয়ের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন পেশায় দিনমজুর ফজল। তিনি বলেন, ”আমি ধার-দেনা করে মেয়ে সুইটিকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। মাটি কেটে ও ভ্যান চালিয়ে মেয়ের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করছি এখনও। কিন্তু এখন শুনছি আমার মেয়েকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।” গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে ও সন্ধ্যায় দুবার মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। সেই সময়েও সুইটি বলেছিল দু’মাস পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরবে।
জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে সুইটির প্রথম বিয়ে হয়। প্রথম স্বামীর সঙ্গে তাঁর এক কন্যা সন্তানও রয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ৯ বছর। ২০১৮ সালে উপজেলার মহেড়া গ্রামের শিপন নামের এক যুবকের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর শিপন সৌদি আরব যান। সেখানে গিয়ে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। পরে জানা যায়, সৌদি আরবে শিপন আরও একটা বিয়ে করেছেন। পরে তাঁকে ডিভোর্স দেয় সুইটি। এই পরিস্থিতিতে ধার করে সৌদিতে সুইটিকে পাঠান বাবা। সেখানকার একটি সংস্থায় কাজ পান।
এরপরই টুইস্ট। জানা গিয়েছে, মক্কায় গিয়ে নজরুল নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সুইটি। তাঁরা মসজিদ-এ-হারামে সাফাই কর্মীর কাজ করতেন। একদিন মসজিদের ভিতরেই ঘনিষ্ঠ হন তাঁরা। কিন্তু কোনওভাবে সেই ভিডিও কেউ ক্যামেরাবন্দি করে ছড়িয়ে দেয়। পাক সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলির দাবি, মসজিদে শুধু চুম্বনের জন্য ফাঁসি দেওয়া হয়নি, তাঁদের অপরাধ আরও গর্হিত। একে তো তারা পরকীয়ায় লিপ্ত, সেই সঙ্গে মসজিদের অন্দরে অনৈতিক কাজে যুক্ত। সুইটিকে গ্রেপ্তার করা হয় সেই ২০২৩ সালে। তারপর থেকে সৌদির জেলেই ছিলেন তিনি। জেলে থাকাকালীন সুইইটি ১৪ অক্টোবর তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। সরকারিভাবে সৌদি জানিয়েছে, মসজিদের ভিতরে অনৈতিক কাজ এবং ইসলামের অবমাননার অভিযোগে ওই যুগলকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
