চোরবাগানে বিপর্যয়। ১৭ জনের মৃত্যু।
Published on
:
1 min read
মাইকে ঘোষণা থেকে প্রথমে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি। তার উপরে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটও সংকীর্ণ। মূলত তার জেরেই চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রবল ভিড়ের মধ্যে মণ্ডপে মাইকে একটি ঘোষণা করা হয়। তার পরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সকল ভলান্টিয়ার ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ বাঁশিও বাজিয়েছিলেন। তার জেরে আরও ছোটাছুটি শুরু করে দেন দর্শনার্থীরা। তার জেরেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে এক পুলিশকর্তার কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে স্থানীয় সূত্রে আরও এই বিপর্যয়ের আরও একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ জানিয়েছেন, পুজোমণ্ডপে ভিড় সামলানোর কোনও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। চোরবাগানে ঢোকার রাস্তার মুখ থেকেই এমন ভিড় ছিল যে, তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মণ্ডপে প্রবেশের মুখে রাস্তা আরও সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক চোখে পড়েনি। এক্সিট গেট দিয়ে দর্শনার্থীরা বেরোনোর সময়ে ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময়ে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে মানুষজন পদপিষ্ট হন। বিপর্যয়ের সময়ে পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।
পুজো মণ্ডপে দমকল-বিধিও ঠিক ভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময়ে ইমার্জেন্সি গেটও বন্ধ ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সব কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই উদ্যোক্তারা পলাতক বলে জানতে পেরেছেন পুলিশকর্তারা। তাঁদের খোঁজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গড়া হবে।
