আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দু’টি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুই রোগীরই শরীরের পেটের অঙ্গ উঠে এসেছিল বুকে। বিরল এই পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারে দুই রোগীকেই সুস্থ করে তোলার পথে বড় সাফল্য পেল কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চিকিৎসকদের দাবি, এমন বিরল পরিস্থিতি একই সময়ে দুই রোগীর ক্ষেত্রে সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে মনে পড়ছে না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার, বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ১৯ বছরের এক যুবতীকে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে নিয়ে আসা হয় আরজি করে। হুগলির বাসিন্দা ওই যুবতীর প্রথমে হাত-পা ভাঙার চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু পরে একাধিক পরীক্ষার পর দেখা যায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেখা যায়, বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা ডায়াফ্রাম সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গিয়েছে। ফলে ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, পাকস্থলী-সহ পেটের একাধিক অঙ্গ উঠে এসেছে বুকের মধ্যে।
এর ঠিক দু’দিন পর, ২ অক্টোবর, শুক্রবার, একই ধরনের গুরুতর আঘাত নিয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিহারের ২৯ বছরের এক যুবককে। তাঁর ক্ষেত্রেও ডায়াফ্রাম ছিঁড়ে যাওয়ায় পেটের একাধিক অঙ্গ বুকে উঠে এসেছিল।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের আঘাতে শুধু পেটের অঙ্গগুলিকে ফের যথাস্থানে ফিরিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়। ডায়াফ্রামের ছিন্ন অংশ মেরামত করার পাশাপাশি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রক্রিয়াও সামলাতে হয়। কার্ডিয়াক সার্জেন রাজর্ষি বসু, অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক রাজশ্রী বিশ্বাস এবং তাঁদের সহযোগী স্নাতকোত্তর স্তরের চিকিৎসকদের যৌথ প্রচেষ্টায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে দুই রোগীই চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের বক্তব্য, দু’জনের অবস্থারই উন্নতি হয়েছে এবং তাঁরা অনেকটাই বিপন্মুক্ত। তবে একজনকে এখনও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেখে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দ্রুত তাঁদের সুস্থ করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী চিকিৎসকরা।
আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে চিকিৎসক রাজর্ষি বসু ও রাজশ্রী বিশ্বাস জানান, এই সাফল্য কোনও এক জন চিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাঁদের কথায়, “আমাদের কারও একার পক্ষে এত বড় চিকিৎসা সম্ভব ছিল না। জুনিয়র টিম এবং একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া এটা একেবারেই সম্ভব হত না। তবে এখন তাঁরা অনেকটাই বিপন্মুক্ত। একজন সিসিইউতে রয়েছে, কিন্তু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই দু’জনকেই সুস্থ অবস্থায় পরিবারের হাতে তুলে দিতে পারব।”
আরজি করের এমএসভিপি সপ্তর্ষি চ্যাটার্জিও চিকিৎসকদের এই সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সবটা শুনেছি। আমাদের হাসপাতালের এই জোড়া সাফল্য আবারও প্রমাণ করল, আমাদের চিকিৎসকরা নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে চিকিৎসা করে চলেছেন। তাঁদের যত প্রশংসাই করা হোক, কম হবে। এখন আমাদের একটাই আশা, যাতে শীঘ্রই দু’জনকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি।”
