আরএসএস। বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। আর্তের সেবায় কোনওরকম ভেদাভেদ না করে অবিলম্বে পথে নেমে যায় সংঘ। ব্যতিক্রম হল না চোরবাগান বিপর্যয়ও। সপ্তমীর সন্ধ্যার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিধ্বস্তদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করলেন স্বয়ং সেবকরা। রবিবার সকাল থেকেই মেডিক্যাল কলেজের মর্গের সামনে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল আরএসএস কর্মীদের।
জানা গিয়েছে, সংঘের বড়বাজার অঞ্চলের পশ্চিমভাগের স্বয়ংসেবকরা মর্গের সামনে আর্ত পরিজনের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করছেন। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির যে কোনও ধরনের প্রয়োজনে আরএসএস কর্মীরা পাশে দাঁড়াচ্ছেন। জানা গিয়েছে, আহতদের সবরকমভাবে সাহায্য করার জন্যও প্রস্তুত আরএসএস। এমনকী, যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে উদ্ধারকাজে পুলিশকে সাহায্য করার জন্যও প্রস্তুত স্বয়ংসেবকরা। সংঘ সূত্রের খবর, ২৫ জন স্বয়ংসেবক ইতিমধ্যেই মানুষের সেবায় কাজ শুরু করেছেন। বাইরে প্রস্তুত শতাধিক। জল, বিস্কুট, ট্রাফিক, সাহায্য, যে কোনও সেবায় নজিরবিহীন ভূমিকায় তাঁরা।
বিপর্যয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো স্বয়ংসেবকদের অন্যতম নীরজ পাণ্ডের কথায়, “আমরা যেখানেই মানুষ বিপদে পড়েন এগিয়ে যাই। পোস্তা ব্রিজ বিপর্যয়ের পরেও আমরা গিয়েছিলাম। এখানেও যা সাহায্য লাগবে, সাধ্যমতো আমরা সব করছি। কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা কাজ করব।” আরেক স্বয়ং সেবক অজয় যাদবের কথায়, “এখানেই শুধু নয়, গত রাত থেকে কাজ করছি। এটাই আমাদের কর্তব্য। ২৫, ৩০ জন এখানে, বাকি শতাধিক স্বয়ং সেবক বাইরে প্রস্তুত।”
চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার পর ১২ ঘণ্টা কেটেছে। প্রশাসন-পুজো কমিটি-বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী-আমজনতা সবাই সবার উপর দায় ঠেলাঠেলিতে ব্যস্ত। এসবের মধ্যে আরএসএস কর্মীরা নিজেদের কাজ করছেন। দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সংঘসেবকদের ব্যবস্থাপনায় উপকৃত হচ্ছেন অনেকেই।
