২৩ মিনিট আগে
![]()
দীপন নন্দী
প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৫টি দেশের অন্তত ৪০৭ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি আছেন। এদের মধ্যে ১৭২ জনের সাজা শেষ হলেও বা মুক্তি পাওয়ার উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখনো কারাগারেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই বন্দিদের বেশিরভাগই ভারত ও মিয়ানমারের নাগরিক।
মোট ৪০৭ বন্দির মধ্যে ৪৪ জন সাজাপ্রাপ্ত, ১৯১ জন বিচারাধীন এবং ১৭২ জন দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। কারা সূত্র জানিয়েছে, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কারও মৃত্যুদণ্ড হয়নি।
বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়। দেশটির ২৩৮ জন বাংলাদেশের কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৮ জনের সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা এখনো কারাগারেই রয়েছেন।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মিয়ানমারের ১৩৩ জন নাগরিক বর্তমানে কারাগারে আছেন। মোট ৪৪ জন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির মধ্যে ৩৩ জনই মিয়ানমারের। তবে তাদের মধ্যে মাত্র একজন দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
বাকি বন্দিদের মধ্যে ৬ জন নাইজেরিয়ার; ৩ জন করে পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার; ২ জন করে তানজানিয়া ও পেরুর নাগরিক। এ ছাড়া জর্জিয়া, বাহামাস, বেলারুশ, গায়ানা, কঙ্গো, ইথিওপিয়া এবং থাইল্যান্ডের একজন করে নাগরিক বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি আছেন।
কারা সূত্র জানিয়েছে, মাদক চোরাচালান, স্বর্ণ পাচার, জালিয়াতি, নকল ডলার ব্যবসা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত অপরাধ, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও মানবপাচারের মতো বিভিন্ন অপরাধে এসব বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের জেলার (মিডিয়া ও লজিস্টিকস) মাসুদ হাসান জুয়েল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে ছাড়পত্র না আসায় তারা দেশে ফিরতে পারছেন না।
তিনি আরও জানান, কারা কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে আসছে।
কারা কর্মকর্তাদের মতে, বন্দিদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ঢাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও চিঠি দেওয়া হয়েছে, তবে সেগুলোর আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কনস্যুলার উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাজা শেষ হওয়া ২৫ ভারতীয় নাগরিক দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন, যাদের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। হাইকমিশন তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য তারিখ আগেভাগে জানানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১২১ বন্দির একটি তালিকা দিয়েছে, তাদের ভারতের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে।
‘এই বন্দিদের বেশিরভাগের সম্পর্কে যে তথ্য রয়েছে, তা দিয়ে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।’
তাই যে বন্দিদের নাগরিকত্ব নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার (কনস্যুলার অ্যাক্সেস) অনুমতি চেয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।
হাইকমিশন বলছে, ‘তারা এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তরের অপেক্ষায় আছে। আবার কিছু বন্দির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য থাকলেও তাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি এখনো ঝুলে আছে।’
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে দ্য ডেইলি স্টার ইমেইলের মাধ্যমে মিয়ানমার দূতাবাসে বারবার যোগাযোগ করলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাজা শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখায় প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে এবং সরকারের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা তৈরি হচ্ছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা হয় এবং তাদের ওয়ার্ডের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়।
গত ৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের একটি হোটেলে অনলাইন জালিয়াতির অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এর আগে জানুয়ারিতেও একই ধরনের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
