হরিয়ানার সাইবার শহর গুরুগ্রামে হাহাকার। বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আর তাতেই মহাবিপাকে গোটা শহর। ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন গুরুগ্রাম। নাভিশ্বাস উঠেছে শহরবাসীর। ১৫০০ কারখানার উৎপাদনও বন্ধের মুখে।
উল্লেখ্য, তিন দিনের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা। তার পর থেকেই শহরের নানা প্রান্ত বিদ্যুৎহীন। শহরবাসীদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইনভার্টার দিয়ে প্রাথমিক ভাবে ঘরের আলো জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ইনভার্টারেরও চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে পানীয় জলের। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পানীয় জলের জন্য হাহাকার বেড়েছে। হরিয়ানা বিদ্যুৎ পরিচালন কমিশন (এইচইআরসি) গুরুগ্রাম এবং নুহের বিদ্যউৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু পরিচলন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন বিদ্যুৎকর্মীরা। আর সেই প্রতিবাদেই তিন দিনের কর্মবিরতির পথে হেঁটেছেন তাঁরা।
বুধবার রাত থেকেই গুরুগ্রাম এবং নুহের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিদ্যুৎবিভ্রাটের খবর আসতে শুরু করে। তার পর সময় যত গড়িয়েছে দুই শহরের বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গুরুগ্রামে। এই শহরে প্রচুর কলকারখানা এবং অফিস রয়েছে। ধাপে ধাপে শিল্পাঞ্চল থেকে বসতি এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযোগ, বিদ্যুৎ দফতরে বার বার ফোন করেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না। হেল্পলাইনে ফোন করেও লাভ হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গুরুগ্রামে সাড়ে ৮ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎবিভ্রাট হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পালম বিহার, নিউ পালম বিহার, অশোক বিহার, সেক্টর-৪, সেক্টর-৫, সেক্টর-৯, সেক্টর-১০৪, ফারুখনগরের বাসিন্দারা। টানা বিদ্যুৎবিভ্রাটের জেরে পাল্টা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন শহরবাসীরা। বিদ্যুৎ ফেরানোর দাবিতে জায়গায় জায়গায় রাস্তা অবরোধ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎকর্মীদের এই কর্মবিরতিতে গুরুগ্রামে হাহাকার পড়ে গিয়েছে।
