রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াত নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান মাস্টার টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত ৯টার দিকে আতাউর মাস্টারের নেতৃত্বে তার স্বজনরা ওই স্কুলছাত্রকে ধরে নিয়ে যান। পরে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও মারধর চলতে থাকে। এ সময় আতাউর মাস্টারের স্বজনদের পাশাপাশি কয়েকজন নারীও নির্যাতনে অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে ছাত্রের স্বজনরা সেখানে গেলে তাদের গালিগালাজ করে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতভর নির্যাতনের পর রোববার ভোরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের ডেকে ছাত্রকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই ছাত্র। তার অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারারাত গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।
ছাত্রের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আতাউর মাস্টার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য অব্যাহত হুমকির মুখে রয়েছেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় পরিবারের কেউ এখনো থানায় অভিযোগ করেননি।
রোববার সকাল থেকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পীরগঞ্জজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর মাস্টার বলেন, ‘আমি জামায়াতের রাজনীতি করি। আমি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’
মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ছাত্রকে একটু শাসন করেছি আমরা।
বিজ্ঞাপন
টুকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। রাতে সেখানে ছিলাম। পরে অসুস্থতার কারণে সেখান থেকে চলে এসেছি।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, এ নিয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিতু কবীর/কেএইচকে/এএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
