পারিবারিক কাঠামোয় সন্তানের জীবনসঙ্গীর মা তথা শাশুড়ির অবদানকে শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির সাথে স্মরণ করতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের চতুর্থ রোববার আন্তর্জাতিকভাবে শাশুড়ি দিবস পালিত হয়। মে মাসে উদযাপিত মা দিবসের সমান্তরালে জীবনের এই বিশেষ অভিভাবকের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি বিশ্লেষণে জানা যায়, গত শতকের ত্রিশের দশকে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আমেরিলো শহরের একটি পত্রিকার সম্পাদক জিন হাও শাশুড়িদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে ১৯৩৪ সালের ৫ মার্চ প্রথম এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দিনে উদযাপিত হওয়ার পর ১৯৭০-এর দশকে ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ফ্লোরিস্টস’ অক্টোবর মাসের চতুর্থ রোববারকে চূড়ান্তভাবে এই দিবসের জন্য নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক তথ্যসংস্থা ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার সূত্রে এ ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।
একটি পরিবারে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্কের সমীকরণ অত্যন্ত সংবেদনশীল। সন্তানের বিয়ের পর পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনে একদিকে যেমন আনন্দের সঞ্চার হয়, অন্যদিকে অনেক সময় জ্যেষ্ঠ এই নারীর মনে নিজের অধিকার ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার অবচেতন শঙ্কা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রীতিনীতি ও মানসিকতার অমিল থেকে তৈরি হয় মতপার্থক্য। আমাদের সমাজে অতীতে নিজের ওপর হওয়া মানসিক নিপীড়নের প্রতিশোধ হিসেবে ছেলের বউয়ের ওপর অন্যায্য আচরণ করার নজির যেমন রয়েছে, তেমনই বহু ইতিবাচক নারী রয়েছেন যারা অতীতের তিক্ততা ভুলে পুত্রবধূকে নিজের গর্ভজাত কন্যার মতো স্নেহে আপন করে নেন।
সমাজবিজ্ঞানী কীরা অ্যালেনডর্ফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যৌথ ও একক পরিবারে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর বন্ধন সবসময় সংঘাতমূলক থাকে না; বরং পারস্পরিক প্রত্যাশা ও দায়িত্বের টানাপোড়েন সঠিকভাবে পরিচালিত না হলেই সম্পর্কের জটিলতা বাড়ে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সোশ্যাল ওয়ার্ক রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, সংসারে নিজেকে অবহেলিত মনে করলে মায়েরা পুত্রবধূর প্রতি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বজায় রাখেন। ফলে নতুন দম্পতিকে নিজেদের মতো চলার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠ মায়ের অনুভূতিকে সমান গুরুত্ব প্রদানই পারিবারিক সম্প্রীতি রক্ষার প্রধান মাধ্যম।
বিশেষ এই দিনে পারস্পরিক মনোমালিন্য ভুলে শাশুড়ির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাঁর অবদানের প্রশংসা করার মধ্য দিয়ে সম্পর্কের বরফ গলানো সম্ভব। তাঁর অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা, পছন্দের খাবার তৈরি কিংবা সাধারণ পারিবারিক আড্ডায় আন্তরিক অংশগ্রহণই এই সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি করতে পারে। পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে #MotherInLawDay বার্তাটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
