কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রায় ছয় বছরে জমা পড়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার অলংকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব অলংকারের ওজন নির্ধারণ, সোনার ক্যারেট যাচাই এবং দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ চলছে।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওজন নির্ধারণ ও যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, দানবাক্সে পাওয়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
সোমবার বিকেলে রূপালী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেসী জানান, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা গণনার কাজ শেষ হতে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় তিন বছর ধরে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অলংকারগুলো পাঁচটি ভাগে ভাগ করে নিলামে তোলা হয়েছিল।
ওই সময় দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা পাওয়া যায়। দানবাক্সে জমা হওয়া টাকা রূপালী ব্যাংকে রাখা হয়। অন্যদিকে, স্বর্ণালঙ্কার সংরক্ষণ করা হয় জেলা কালেক্টরেটের ট্রেজারিতে।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে।
এ ছাড়া মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
ধর্মপ্রাণ মানুষের দান ও অনুদানে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মসজিদটির দানবাক্স খোলার পর বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়ার খবর প্রায়ই দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
