পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার চেয়ে গ্রামবাংলার আঙিনায় ঘোরা বেশি পছন্দ? তা হলে চলুন কলকাতার কাছেই গোপালপুরে। ওড়িশার সৈকতশহর হিসাবে গোপালপুর জনপ্রিয়। তবে এই গোপালপুরে সাগর নেই। আছে পুরনো মন্দির, শাল-পিয়াল আর গ্রামবাংলার হাতছানি। কলকাতা থেকে গাড়ি ছোটালে ঘণ্টা তিন-চারেকের পৌঁছোবেন সেখানে। থাকার জন্য রয়েছে বন-আবাসও।
ভাবছেন এই জায়গার সাকিন কোথায়? পশ্চিম মেদিনীপুরের মুরাকাটায় গোপালপুর থেকে ঘুরে আসুন একবার। ঘরের কাছে এই জায়গা অজানা অনেকের কাছেই। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। কলকাতা থেকে বাগনান, পাঁশকুড়া, ডেবরা হয়ে মেদিনীপুর।
গোপালপুর রয়েছে বায়োডাইভার্সিটি পার্ক।
মেদিনীপুর ট্রাফিক মোড় থেকে দূরত্ব মোটামুটি ১৫ কিলোমিটার। সেখান থেকে মেদিনীপুর শহরের গান্ধী মোড় হয়ে গেলেই পড়বে গোপালপুর বায়োডাভার্সিটি পার্ক।
প্রবেশমূল্য দিয়ে সেখানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সাজানো গাছগাছালি। আরও খানিক এগোলে পুষ্করিণী। সেখান থেকেই চোখে পড়বে শালের জঙ্গল। পার্ক ঘুরে গাড়ি বা টোটো ভাড়া করে বেরিয়ে পড়া যায় আশপাশের কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখতে। মুরাকাটার কাছাকাছি রয়েছে কুন্দ্রামাতার থান। এ ছাড়াও এখান থেকে যেতে পারেন কংসাবতীর জোড়া ব্রিজ। নদীর বুকে দু’টি ব্রিজ পাশাপাশি। দেখে নিতে পারেন জমিদার বাঁধ। গাছগাছালি ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশে, জলাধারের স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে খানিকটা সময় দিব্যি কেটে যাবে সেখানে। আর আছে লালগড়ের জঙ্গল।
কংসাবতীর জোড়া ব্রিজ। ছবি:সংগৃহীত।
একরাত থেকে গেলে পরদিন গোয়ালতোড়-পীরাকাটার রাস্তা ধরে সকালে চলে যেতে পারে কর্ণগড়ে। গোপালপুর বায়ো ডায়ভার্সিটি পার্ক থেকে দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের মতো। মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এমনই একটি গ্রাম কর্ণগড়, যা রানি শিরোমণির নেতৃত্বে চুয়াড় বিদ্রোহের ইতিহাস বহন করে চলেছে।
১৭৯৮ সালে স্থানীয় চুয়াড় সম্প্রদায়ের মানুষ ব্রিটিশদের জোর করে কর আদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন এখানেই। নেতৃত্ব দেন রানি শিরোমণি। এই বিদ্রোহ দমন করতে ব্রিটিশদের কম ঝক্কি পোয়াতে হয়নি। তবে শেষপর্যন্ত পরাজিত হয়ে কারাবরণ করতে হয় রানিকে। তার পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। গড় সংরক্ষিত এলাকা। টিকিট কেটে ঢুকতে হয়।
পরিখা ঘেরা গড়ের দক্ষিণাংশে কর্ণগড়ের রাজাদের কুলদেবতা দণ্ডেশ্বর শিব এবং দেবী মহামায়ার মন্দির। জানা যায়, গড় থেকে রানি শিরোমণি প্রতি দিন মহামায়ার মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। এখনও গ্রামবাসীরা সেখানে পুজো দিতে আসেন।
কোথায় থাকবেন?
বায়োডাইভারসিটি পার্কে থাকার জন্য রয়েছে চারটি কটেজ। তিনটি কটেজ দ্বিশয্যার এবং একটিতে চার জন থাকতে পারবেন। খরচ দৈনিক মাথাপিছু থাকা এবং খাওয়া নিয়ে ১৭০০-২০০০ টাকা। ‘মৃত্তিকা’ নামে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও একটি থাকার জায়গা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে রাঙামাটি যুব আবাস।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে গাড়িতে এলে কোলাঘাট পার করে ডেবরা টোল প্লাজ়া হয়ে কংসাবতীর ব্রিজ পেরিয়ে আসতে পারেন। ট্রাফিক মোড় হয়ে গোপালপুর। ধেরুয়া, মুরাকাটা হয়েও যাওয়া যায়।
