আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র’য়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৯ রানের লিড দেওয়া বাংলাদেশ জয়ের দিকেই এগুচ্ছিল। কিন্তু সেদিকুল্লাহ আতালের প্রতিরোধ, শেষ দিকে ইয়ামিন আহমেদজাই, কায়েস আহমেদের দৃঢ়তা আর বাংলাদেশের কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ড্র করে আফগানিস্তান। শেষ এক ঘণ্টায় একাধিক রান আউট, স্ট্যাম্পিং, ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশি ফিল্ডাররা। দিন শেষে তাই স্বাভাবিকভাবেই হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে আফগান ব্যাটাররা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন সেটাও প্রসংশা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে শান্তর কণ্ঠে হতাশা ছিল স্পষ্ট। শান্ত বলেন, ‘হতাশাজনক, তবে আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। পেসাররা খুব ভালো বোলিং করেছে। আশা করেছিলাম, স্পিনাররাও ম্যাচে প্রভাব ফেলবে। তারা চেষ্টা করেছে, তবে আফগানিস্তান সত্যিই অসাধারণ খেলেছে।’
বাংলাদেশের সামনে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। ১০৬ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে শান্তর দল। আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯। চতুর্থ দিন শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান করায় শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি মনে হচ্ছিল। জিততে শেষ দিনে ৭ উইকেট নিতে হতো বাংলাদেশকে।
কিন্তু পঞ্চম দিনে সেই সমীকরণ বদলে দেন আতাল। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন আফগান ওপেনার। তাঁকে আউট করার পরও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল জয় তুলে নেওয়ার। তবে পরপর দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ, একটি ক্যাচও ফসকে যায় হাসান মাহমুদের হাত থেকে, লিটন দাস মিস করেন স্ট্যাম্পিং। শেষ দিকে কায়েস আহমেদের অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান।
জয় হাতছাড়া হলেও বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট শান্ত। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমি যখনই হাসানের হাতে বল তুলে দিই, সে দলের জন্য দারুণ কিছু করে দেখায়। অস্ট্রেলিয়া হোক কিংবা এখানকার কন্ডিশন, সব জায়গাতেই সে অসাধারণ। এবাদত, তাসকিন, রানা ও শরিফুলকে নিয়ে আমাদের পেস ইউনিটও দুর্দান্ত। তারা অনেক পরিশ্রম করে। আশাকরি, গত কয়েক বছরে যেভাবে পারফর্ম করেছে, সামনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।’
লিটন দাসের পারফরম্যান্সও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও লিটন ছিলেন অসাধারন। ম্যাচে ৯টি ডিসমিসাল করেছেন। এক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি সেই সঙ্গে ৯ ডিসমিসাল, যেটা বিশ্বরেকর্ড।
লিটনকে নিয়ে শান্ত বলেন, ‘এই ম্যাচে লিটন যেভাবে খেলেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। শুধু এই ম্যাচেই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই উইকেটের পেছনে সে দারুণ পারফর্ম করছে। ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রেও তার সিদ্ধান্তগুলো চমৎকার। এমন কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করার পর ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করে সে যেভাবে নিজের সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো দিক। সে দারুণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। আশা করি, ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং দুটোতেই সে এভাবে ভালো খেলা চালিয়ে যাবে।’
