সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বন্দিদের ৭৪% সৌদি আরবে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ফেরেন ময়মনসিংহের ভালুকার আলী হোসেন। বড় স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে গতকাল শুক্রবার শোনালেন প্রবাসজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা।
গরিব কৃষক বাবার সন্তান আলী হোসেন (২১) ধারদেনা করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবে যান। তবে কফিলের কাছ থেকে আট হাজার রিয়াল ধার নেওয়া ও মোটরসাইকেল চুরির মিথ্যা অভিযোগে জেদ্দার কারাগারে সাত মাস বন্দি থাকতে হয় তাঁকে।
আলী হোসেন বলেন, 'খাবার ডেলিভারিম্যানের কাজ করতাম। মাসে আড়াই হাজার রিয়াল দেওয়ার কথা ছিল। প্রথম দিকে কিছুদিন দেওয়া হয়। এর পর ৫০০ রিয়ালের বেশি দিত না। দেশে ফেরত আসার কথা জানালে মোটরসাইকেল চুরি ও টাকা ধার করার মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়।'
আলী হোসেন বলেন, 'পুলিশ গ্রেপ্তারের পর সৌদি দূতাবাসের কেউ খোঁজ নেয়নি। আমাকে কখনও আদালতেও তোলা হয়নি। বন্দিজীবনের সাত মাসে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে চারবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছি।'
তিনি বলেন, 'পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছি, দ্রুত মুক্তি পাব। এভাবে সাত মাস একটি রুমে কাটাতে হয়। কারাগারে গিয়ে রেজওয়ান নামে আরেক বাংলাদেশি ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি এখনও কারাগারে বন্দি আছেন।'
বিদেশের মাটিতে কারাভোগের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা সমকালকে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ থেকে আসা আলী হোসেনের মতো আরও কয়েকজন। দেশে ফিরে তারা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।
সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য সামনে আসার পর প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ছোট-বড় কিংবা বানোয়াট অভিযোগ ও মামলায় বিদেশের মাটিতে অনেক বাংলাদেশি কারাবন্দি থাকলেও তাদের জন্য কার্যকর আইনি সুরক্ষাকাঠামো পাঁচ দশকেও গড়ে তোলা যায়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ কারণে অনেক সময় লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড পাচ্ছেন প্রবাসীরা।
সরকারি হিসাবে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে ১০ হাজার ৬৬ বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। দেশটির কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক। এ হিসাবে বিদেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৭৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সৌদি আরবে।
অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন এক হাজার ৫৭৯, তুরস্কে ৫০৮, ওমানে ৪২০, কাতারে ৪২০, গ্রিসে ৪১৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪০৪, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৮৫ ও মালয়েশিয়ায় ২১৯ জন বাংলাদেশি।
তবে বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি বলে মনে করছে এ খাত নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলো। তাদের ভাষ্য, বিশ্বের অনেক দেশের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য নেই।
ব্র্যাকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আউট পাস নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে ৫৩ হাজার ২১২ বাংলাদেশিকে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫১ হাজার ৫২৫ জন এবং নারী এক হাজার ৬৮৭ জন। চলতি বছর আউট পাস নিয়ে ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৬১১ জন সৌদি আরব থেকে এসেছেন। এ হিসেবে আউট পাস নিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৩.১৬ শতাংশ সৌদি আরব থেকে এসেছেন।
প্রথম আলো
‘নদীপথে হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি, অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশও’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন জেলেরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নৌশ্রমিকদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হচ্ছে। পণ্যবাহী নৌযান থেকে লুট করা হচ্ছে সারসহ মালামাল। নদীপথে ঘটছে অপহরণ, ছিনতাই, মাদক পাচার ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মতো অপরাধও। এসব অপরাধ ঠেকাতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন নৌ পুলিশের সদস্যরাও।
নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা নামলেই নদীপথে আতঙ্ক বাড়ে। যাত্রীবাহী ট্রলার, জেলেনৌকা, পণ্যবাহী কার্গো, বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযানে হামলা ও অপরাধের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের মতে, স্থলপথের তুলনায় দীর্ঘ নৌপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কম থাকায় অপরাধীরা এই পথ বেছে নিচ্ছে। এতে নদীকেন্দ্রিক অপরাধ বাড়ছে।
নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের নদীপথকে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে নৌ পুলিশ। এসব অঞ্চলে হত্যা, অপমৃত্যু, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র, চোরাই পণ্য বহন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় ২০২৪ সালে ২ হাজার ৮৫টি মামলা হয়। ২০২৫ সালে মামলা হয় ৩ হাজার ৩৯৯টি। এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১ হাজার ৩১৪টি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, দস্যুতা ও অপমৃত্যুর ঘটনায় হয়েছে আরও ৫০৫টি মামলা। আগের দুই বছরের উল্লিখিত সব শ্রেণির মামলা এবং চলতি বছরের ৯ মাসের এই ৫ শ্রেণির মামলা মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৮৯।
জেলে হত্যা, নৌযানে ডাকাতি
গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের কাছে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় জলদস্যুদের গুলিতে মো. হোসেন (৩০) নামের এক জেলে নিহত হন। গুলিতে আহত হন আব্বাস (৩২), কাঞ্চন (৩৪) ও সোহেল (২৯) নামের আরও তিন জেলে। তাঁদের সবার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার বাঘার হাওলা গ্রামে।
নৌ পুলিশ জানায়, ওই রাতে জেলেদের ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা করে একদল জলদস্যু। জেলেরা প্রতিহত করতে চাইলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ জেলার সীমানাসংলগ্ন নদীপথে ডাকাত ও জলদস্যুরা জেলেদের নৌকা এবং যাত্রীবাহী নৌযানে হামলা চালায়। সাধারণত সন্ধ্যার পর চাঁদপুরের হাইমচর, শরীয়তপুরের লক্ষ্মীচর ও কাঁচিকাটা, মুন্সিগঞ্জের পদ্মা-মেঘনার মোহনা ও সংলগ্ন চরাঞ্চল, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা এবং বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনার চরাঞ্চলে এসব হামলা হয়। জেলেদের হতাহত করে টাকা, মালামাল ও মাছ লুট করা হয়। এতে জেলে, নৌযানের চালক ও যাত্রীরা সন্ধ্যার পর আতঙ্কে থাকেন।
শাহ আলম মল্লিক বলেন, এখন পদ্মা-মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় কোস্টগার্ড, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের দিনরাত অভিযান চলায় তেমন ডাকাতির ঘটনা ঘটছে না। অভিযান শেষে জেলেরা আবার মাছ ধরতে নামলে দুর্গম চরাঞ্চলে রাতে ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের জানমালের নিরাপত্তায় তখনো কোস্টগার্ড ও পুলিশের টহল জোরদার রাখা দরকার। তাঁর মতে, জেলার সীমানাসংলগ্ন নদীপথ ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে টহল বাড়ালে এসব অপরাধ কমবে।
পণ্যবাহী নৌযানেও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর নরসিংদীসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি বাল্কহেড থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বস্তা বা ৩১৭ মেট্রিক টন সার ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে সারবাহী জাহাজ এমভি আল-বাখেরার সাত কর্মচারীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। নৌযানে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডও নদীপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
চাঁদা না দিলে হামলা, আক্রান্ত পুলিশও
বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আহমাদুল কবির মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর সংলগ্ন নদীতে পণ্য বোঝাইয়ের সময় প্রতিটি নৌযান থেকে ২ হাজার টাকা, ভোলার ইলিশায় ৫০০ টাকা এবং সাভারের রুস্তমপুর ও আমিনবাজারে আড়াই হাজার টাকা করে টোলের নামে চাঁদা নেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, এভাবে সারা দেশের নদীর বিভিন্ন স্থানে টোলের নামে নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি।
গত বছরের ৭ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জে মেঘনা নদীতে টেঁটা, বল্লম, রামদাসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে নৌযান থামিয়ে চাঁদা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ দল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এমভি জয়নব বৃষ্টি পরিবহন নামের বাল্কহেডের শ্রমিক মহিবুল্লাহ ও জাকারিয়াকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়।
খবর পেয়ে চালিভাঙ্গা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযানে গেলে তাঁদের ওপরও টেঁটা ও বল্লম নিয়ে হামলা করে চাঁদাবাজেরা। এতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাকসুদ এবং কনস্টেবল সোহাগ ও সাইদুর জখম হন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে রানা ও সাজ্জাদ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁদাবাজি ঠেকাতে মামলা ও সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান নৌ পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. রেজাউল করিম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করলেও কেউ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করেন না। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলে সাক্ষ্য না থাকায় আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা যায় না।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়েও হামলার মুখে পড়ছে নৌ পুলিশ। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকাঘেঁষা পদ্মা নদীতে এমন অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ সদস্য।
এ ছাড়া গত ১৯ আগস্ট বিকেলে পিরোজপুরের কাউখালীতে নদীতে টহল শেষে ফেরার পথে নৌ পুলিশের কনস্টেবল জাকির হোসেনকে ছুরিকাঘাত ও মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আরমান হোসেনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুঁকি ৬৩৮ কোটি ডলারের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ দেশের অর্থনীতির জন্য একদিকে অগ্রগতির স্বীকৃতি, অন্যদিকে বড় পরীক্ষা। এতে রপ্তানিতে ৬৩৮ কোটি ডলারের ঝুঁকি রয়েছে। এতদিন উন্নত ও উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির যে সুবিধা পাওয়া গেছে, উত্তরণের পর তার একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। কমতে পারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা। চাপ পড়তে পারে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতে। একই সঙ্গে ওষুধের মেধাস্বত্ব, রপ্তানি প্রণোদনা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার কিছু ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিআইও) ড. মোস্তফা আবিদ খান সম্প্রতি এক সেমিনারে এ তথ্য উপস্থাপন করেন। এই গবেষণার মূলভিত্তি হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান।
জানতে চাইলে মোস্তফা আবিদ খান যুগান্তরকে বলেন, এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। হয়তো তিন বছর সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু এরপরও এটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন তিন বছর সময় পেলে তা ভালো ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে সংস্কার আনতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। কোনো কিছুই নীতিমালায় আটকে রাখা যাবে না। বিশেষ করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। দক্ষতা না বাড়লে শিল্প আগাবে না। বর্তমানে এলডিসিভুক্ত ৪৯টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই তালিকা থেকে উত্তরণের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে বাংলাদেশের আবেদনের পর তা দুই বছর পিছিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করে জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত কমিটি। তবে এলডিসি উত্তরণ হলে বাংলাদেশের নানা ধরনের সুবিধা কমে যাবে। এ কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরণ প্রক্রিয়া আরও তিন বছর পেছানোর আবেদন করে। শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন চলতি মাসের মধ্যেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি বলেন তিন বছর কীভাবে কাজে লাগানো হবে তারও একটি কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।
বিএফটিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর কিছু বাণিজ্য সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। এতে রপ্তানি ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমবে। যার আর্থিক মূল্য ৬৩৮ কোটি ডলার। তবে এটি সম্ভাব্য ক্ষতির প্রাক্কলন, নিশ্চিত ক্ষতির হিসাব নয়। তবে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো বড় বাজারে উত্তরণের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখার সুযোগ রয়েছে। জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়েছে। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব সুবিধা কাজে লাগানো এবং পণ্যের উৎপাদনশীলতা ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ইউরোপ-কানাডায় রপ্তানিতে বেশি ঝুঁকি: বিশ্লেষণে বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর ক্ষতির বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে। সেখানে রপ্তানি কমতে পারে ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। কানাডায় সম্ভাব্য পতন ৪২ দশমিক ০৫ শতাংশ। একইভাবে জাপানে ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চীনের বাজারে সম্ভাব্য পতন ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমেনি: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য না আসা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১১টি প্রধান পোশাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি ছিল ২ হাজার ৫৭৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এসব পণ্যের অংশ ছিল মোট রপ্তানির ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়াও একই বছরে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ছিল তুলা, সুতা ও বোনা (নিটিং) কাপড়ের তৈরি নানা পোশাক। ফলে কোনো নির্দিষ্ট বাজারে শুল্ক বৃদ্ধি বা প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পণ্যের দাম বেড়ে গেলে রপ্তানিতে চাপ তৈরি হবে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, মৎস্য, কৃষিপণ্য, সিরামিক ও গৃহসজ্জার পণ্যের মতো খাতে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসব পণ্যের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বেশি আসছে, ওইসব পণ্যে বিশেষ করে দিতে হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো পণ্যগুলোতে জোর দিতে হবে। এসব শিল্পের উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক এবং নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের বাজারজাতে বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।
কমছে বিনিয়োগ, দুর্বল হচ্ছে রাজস্বের ভিত্তি: এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকালে দেশের অর্থনীতির কয়েকটি সূচকও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিনিয়োগ। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশে। একই সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ থেকে কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে। একই সময়ে মোট দেশজ সঞ্চয় জিডিপির ২৫ দশমিক ২২ শতাংশ থেকে কমে ২৩ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের অবস্থাও দুর্বল। জিডিপির অনুপাতে সরকারের মোট রাজস্ব ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৮ দশমিক ১ শতাংশে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
ওষুধের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা: এলডিসি হিসাবে বাংলাদেশ মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত কিছু আন্তর্জাতিক বিধান বাস্তবায়নে ছাড় পেয়েছে। উত্তরণের পর ডব্লিউটিওর বাণিজ্য-সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকারবিষয়ক চুক্তি (ট্রিপস) পুরোপুরি বাস্তবায়নের চাপ বাড়বে। বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দেশের মোট ওষুধের চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে। এ শিল্পে ইনসুলিন, হরমোন ও ক্যানসারের ওষুধের মতো উন্নত পণ্যও তৈরি হয়। কিন্তু উত্তরণের পর নতুন পেটেন্ট পাওয়া ওষুধ উৎপাদনে বিদেশি কোম্পানি বেশি রয়্যালটি দাবি করতে পারে। এর প্রভাব তিন থেকে চার বছর পর দৃশ্যমান হতে পারে। তবে আগে থেকে পেটেন্ট থাকা ওষুধের দাম তাৎক্ষণিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম। এছাড়া কপিরাইট-সংক্রান্ত বিধান মেনে চলার কারণে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও বইয়ের খরচ বাড়বে।
কালের কণ্ঠ
‘ঢাকায় দিনে ভাঙছে ৪৪ সংসার’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রিয়াদ হাসান ও শাহনাজের (উভয়েরই ছদ্মনাম) পাঁচ বছরের প্রেমের পরিণতিতে ২০১৭ সালের জুনে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পুরান ঢাকায় সংসার শুরু করেন তাঁরা।
রিয়াদ ব্যবসায়ী। শাহনাজ ঘরকন্না সামলান। ২০২১ সালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয় তাঁদের। তবে তত দিনে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। রিয়াদকে সন্দেহ করতে শুরু করেন শাহনাজ। রিয়াদও কেমন যেন দূরে দূরে থাকেন। এভাবে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় দুজনের মধ্যে। ঘটে সম্পর্কের অবনতি।
খিটিমিটি, ঝগড়া এক পর্যায়ে বিচ্ছেদের দিকে গড়ায়। ২০২৫ সালে অবসান ঘটে দুজনের আট বছরের দাম্পত্যজীবনের। এখন রিয়াদ থাকেন পুরান ঢাকাতেই। শাহনাজ মেয়েকে নিয়ে থাকেন মিরপুরে বাবার বাড়িতে। রিয়াদ কোনো খোরপোশ দেন না।
মাস্টার্স করা শাহনাজ চাকরি নিয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। শাহনাজের ভাষ্য, সন্তানের কথা ভেবে অনেক চেষ্টা করেও সংসার টেকাতে পারেননি। রিয়াদ বিয়ে করেছেন বলেও জানান। তবে তিনি কী করবেন, এখনো ঠিক করেননি। আপাতত মেয়েকে নিয়ে ভাবছেন।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আরিফ-নাজমার ৯ বছরের দাম্পত্যজীবনের পরিণতিও একই। তাঁরা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, দুজনই এত ব্যস্ত যে সংসারের দৈনন্দিন কাজ, সাড়ে চার বছরের সন্তানকে সময় দেওয়া—এসব হয়ে উঠছিল না। বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থেকে তা ক্রমে জটিল আকার ধারণ করে। পরে ঘটে যায় বিচ্ছেদ।
শুধু এই দুই দম্পতি নন, রাজধানীতে একই ছাদের নিচে থেকেও পরস্পর দূরে সরে যাচ্ছেন এমন হাজারো দম্পতি। নগরের সংসার ভাঙার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক
বাস্তবতা। পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ভাঙছে ৪৪টি সংসার। অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় দুটি করে বিচ্ছেদ ঘটছে। বিচ্ছেদের এই চিত্রে নারীদের পক্ষ থেকে আবেদনের সংখ্যাও অনেক বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সাত হাজার ৫১৪টি এবং জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় দুই হাজার ৮৫১টি তালাক কার্যকর হয়েছে।
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পারস্পরিক আস্থার সংকট, সন্দেহ-সংশয়, মাদকের নেশা—এসব ক্ষতিকর বিষয় প্রতিনিয়ত নগরের দাম্পত্যজীবনে ফাটল ধরাচ্ছে। আর্থিক টানাপড়েনও অনেক দাম্পত্যসংকটের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যার পরিণতি একটি সংসারের কয়েকটি জীবনকে ফেলে দিচ্ছে ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে। বিবাহবিচ্ছেদে সবচেয়ে সংকটে পড়ে নির্দোষ সন্তানরা। কে দেখবে, কার কাছে থাকবে, কে দেবে সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা—এই টানাপড়েনে অনেক শিশু-কিশোরের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ সিটিতে তালাক বেশি: দক্ষিণ সিটির চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ও উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় মাসে গড় হিসাব করলে দক্ষিণে তালাকের সংখ্যা বেশি। ৯ মাসের (সাত হাজার ৫১৪ তালাক) তথ্য মতে, প্রতিদিন ভাঙছে প্রায় ২৮টি সংসার। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় মাসে পাওয়া (দুই হাজার ৮৫১ তালাক) তথ্য মতে, প্রতিদিন ভাঙছে ১৬টি সংসার। এ হিসাবে উত্তরের তুলনায় দক্ষিণে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি তালাক কার্যকর হয়েছে।
দক্ষিণ সিটির গত কয়েক বছরের তথ্যেও বিচ্ছেদের প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২৩ সালে সেখানে তালাকের কার্যকর হয় সাত হাজার ৫৩০টি, ২০২৪ সালে সাত হাজার ৬৯৫টি, ২০২৫ সালে আট হাজার ১৭৪টি এবং চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সাত হাজার ৭১৪টি।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০২৩ সালে আবেদন পড়ে পাঁচ হাজার ৪১৪টি, এর মধ্যে কার্যকর হয় পাঁচ হাজার ২৩০টি। ২০২৪ সালে পাঁচ হাজার ৪৫৯টি আবেদন পড়ে, তালাক কার্যকর হয় পাঁচ হাজার ৩০৫টি। ২০২৫ সালে আবেদন জমা পড়ে পাঁচ হাজার ৮৪৭টি, তালাক কার্যকর হয় পাঁচ হাজার ৩২৬টি। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তিন হাজার ১৫৯টি আবেদন জমা পড়ে, এর মধ্যে দুই হাজার ৮৫১টি তালাক কার্যকর হয়। এই হিসাব বলছে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—বিচ্ছেদের নোটিশ যাওয়ার পর পুনর্মিলনের ঘটনা খুবই কম। আবেদনের পর ৫.৮৭ শতাংশ আপস হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু থাকার শঙ্কা’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এডিস মশার ঘনত্ব সহনীয় পর্যায় অর্থাত্ নিয়ন্ত্রণে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের সংখ্যা সর্বাধিক বলে কীটতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের চিকিত্সা সেবা সামাল দিতে গিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্যান্য রোগীদের চিকিত্সা ও অপারেশন ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একাধিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। একজন স্বনামধন্য শল্যবিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘বেশ কয়েকজন জটিল রোগীর অপারেশন করা জরুরি। কিন্তু আইসিইউ সংকট থাকায় অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি বেসরকারি পর্যায় আইসিইউগুলোর মধ্যে সিংহভাগ বেডে ডেঙ্গু রোগী। জটিল রোগী অপারেশন করার আগে ্আইসিইউ প্রস্তুত রাখতে হয়। ডেঙ্গু রোগীর ব্যাপক চাপের কারণে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চাপ পড়েছে বলে উক্ত শল্যবিদ জানিয়েছেন।
একটি চিহ্নিত মশা কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হয়। এডিস মশা বংশ বিস্তার নিধন বা ধ্বংস করলে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোথায় বংশবিস্তার করে—এটা সকলের জানা। তারপরেও নিধন করার জন্য উদ্যোগ নেয় না। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাসা কিংবা বাড়িতে আশপাশে জমাট বাধা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। বাসিন্দারা সচেতন হলে নিজেরাই উত্সস্থল নিজেরাই ধ্বংস করতে পারে। এই কাজ করলে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারবে না। ডেঙ্গু জ্বরও হবে না বলে ঐ কীটতত্ত্ববিদ জানান।
এদিকে, হামের টিকা ৯৫ ভাগ শিশুকে দিতে পারলে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে এখনো বাকি রয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাপকহারে চলছে বলে এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে হাম ছোঁয়াচে। হামে এক জন আক্রান্ত হলে অপর জনের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ডেঙ্গু জ্বর ছোঁয়াচে নয়, শুধু এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হয়। এই বিষয়টি চিহ্নিত ও সকলের জানা। কিন্তু মশক নিধনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের ব্যর্থতা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের অভিমত।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জন। গত পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১১ লাখ ৯ হাজার ৮০১ জন আক্রান্ত হন এবং মারা গেছে ৩৭১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯১০ জন। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ২১ লাখ ৮ হাজার ৮৭০ জন এবং মারা গেছে ১ হাজার ১১০ জন।
মহাখালী জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ‘ডেঙ্গু যখন দেশে শুরু হয়েছে তখন এটা নির্মূল করা সম্ভব। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, সকল বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানের মশক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে ঐসব প্রতিষ্ঠানকে মশক নিধনে দেশব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’ ডেঙ্গু এখন গ্রামে ঢুকে পড়েছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে গ্রামের সংখ্যা সর্বাধিক বলে তিনি জানান। জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে ডেঙ্গু জ্বর শুরু হয় রাজধানীতে। ২৬ বছর আগেকার ঘটনা। এ পর্যন্ত আমরা ডেঙ্গুর সঙ্গে বসবাস করছি। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু ব্যাপকহারে শুরু হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার গ্রামাঞ্চলে বেশি। ডেঙ্গু জ্বরে চিকিত্সা সেবা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থায়ও ঘাটতি রয়েছে অনেক। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সংকট অনেক। চিহ্নিত এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু হয়। এই মশা নিধন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকল স্তরের লোকজনের অংশগ্রহণে সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম থাকতে হবে।’ সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে তিনি জানান।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘অবরোধে পর্যটকশূন্য সাজেক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাজেকে আটকে পড়া দুই হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নেয়া হলেও অবরোধ অব্যাহত থাকায় রিসোর্ট-কটেজ, পর্যটকবাহী জিপ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পর্যটক যাতায়াতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বাঘাইহাট বাজার এলাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বন্ধ ছিল অধিকাংশ দোকানপাট। খোলা কয়েকটি দোকানেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। সড়কে মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান জসিম জানান, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন পাহাড়ের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার থেকে আবারো অবরোধ শুরু করে সংগঠন দু’টি।
অবরোধের প্রথম দিন উজো বাজার এলাকায় পর্যটকবাহী গাড়ির বহর চলাচলে বাধা দেয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর সামনে এগিয়ে যায়। এরপর সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।
এ ঘটনার পর সাজেকে আটকে পড়া দুই হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে ফিরিয়ে নেয়া হয়। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাজেকের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীও জানান, প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা
অবরোধের কারণে সাজেকের রিসোর্ট-কটেজগুলোতে পর্যটক নেই বললেই চলে। আগাম বুকিং বাতিল হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অনেক পর্যটক আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় নতুন পর্যটকরাও সাজেকে যেতে পারছেন না।
বণিক বার্তা
‘তথ্য চুরির শঙ্কায় বিশ্বজুড়ে আর্থিক খাতে কড়াকড়ি, দেশেও বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সাইবার ঝুঁকি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং নতুন দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়ও কমে আসছে।
বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। কোথাও অনলাইন ব্যাংকিং, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি অন্তত ১০টি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রেখেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সাইবার হামলা, তথ্য চুরি বা আর্থিক ক্ষতির তথ্য না মিললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর জরুরি নিরাপত্তা অডিট, নিয়মিত পেনিট্রেশন টেস্ট এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকে নিজস্ব ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের আরো কয়েকটি ব্যাংকও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি এড়াতে এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝুঁকি কেটে গেলে ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই শেষ হলে ওয়েবসাইটগুলো আবার চালু করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার কথা আমরা শুনিনি। দেশের ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাদের তথ্যপ্রযুক্তি টিমের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দলের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারির পর আমরাও সতর্ক হই। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। সে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ওয়েবসাইটও বন্ধ করা হয়। যতক্ষণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওয়েবসাইট বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ আমরাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তাসহ তথ্যপ্রযুক্তি দল সতর্ক রয়েছে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ অনুসরণ করে ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকও। বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বণিক বার্তাকে জানান, ঝুঁকি কেটে গেলে আবার ওয়েবসাইট সচল করা হবে।
পিএইচপিভিত্তিক কিছু টুল ব্যবহারের কারণে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহউদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট বন্ধ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সাইবার ঝুঁকি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং নতুন দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়ও কমে আসছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর মূল লেনদেন নেটওয়ার্ক ও গ্রাহকসেবা অক্ষত রেখে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত নিরাপদ করা, আন্তর্জাতিক সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ করা এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের লক্ষণ শনাক্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করাই এখন ব্যাংকগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি সেবা, ওয়েব সার্ভার ও এপিআই সংযোগগুলোর নিরাপত্তাও নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি রয়েছে। তবে ঝুঁকি থাকা, হামলার চেষ্টা হওয়া এবং নিশ্চিতভাবে তথ্য ফাঁস হওয়া—এ তিনটি বিষয় এক নয়। সব ব্যাংকও সমান ঝুঁকিতে নেই। কোনো ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি হলেই সেটি আক্রান্ত হবে, এমনও নয়। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ, দুর্বলতা, সার্ভারের কনফিগারেশন, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের সঙ্গে অন্যান্য সিস্টেমের সংযোগের ওপর। যেসব আর্থিক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো পিএইচপির পুরনো সংস্করণ ব্যবহার করছে এবং নতুন নিরাপত্তা হালনাগাদ দ্রুত প্রয়োগ করতে পারছে না, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘অনিরাপদ পর্যটন এলাকা, আড়াই মাসে ২৫ মৃত্যু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে পর্যটনের প্রধান কেন্দ্র কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত আর তার পাশ ঘেঁষে থাকা ছোট ছোট পাহাড়। সেখানে ঘুরতে গিয়ে চার দিনের ব্যবধানে প্রাণ গেছে ১৫ জনের। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এবং পাঁচজন সাগরে ডুবে। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই রাঙামাটির সাজেকে ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়ার পর গোলাগুলির শব্দ শুনে ফিরতে হয়েছে প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে।
গত আড়াই মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাহাড়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে জিম্মি ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে।
এসব মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পর্যটকদের নিরাপত্তায় অবহেলা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার দায়ও রয়েছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার ঘাটতি, নজরদারির বাস্তবতা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসাইন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে। নিরাপত্তা- ব্যবস্থায় পুলিশের কোনো ঘাটতি নেই। পূজা উপলক্ষে এবং পর্যটনের মূল মৌসুম শুরু হওয়ায় কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পর্যটকদের অসচেতনতা ও সতর্কবার্তা অমান্য করার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ নামের একটি রিসোর্টে ১৭ অক্টোবর সকালে অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কক্সবাজার জেলায় ২ হাজারের বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। টুপটুপ রিসোর্টের মতো কক্সবাজার শহর ও আশপাশ এলাকায় অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা ছয় শতাধিক। পর্যটনসংশ্লিষ্ট অনেক স্থাপনায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় ১১৫টি হোটেল ও রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের। বাকি সব স্থাপনা অনুমোদনহীন বা অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে।
টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ফারিহা কবিরের বাবা জিয়াদুল কবির বলেন, ‘সরকারের যেসব বিভাগ ও দপ্তরের পর্যটন এলাকার অনিয়ম ও ঝুঁকি দেখার কথা, তারা সেগুলো দেখছে না। তাই মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। অবৈধ রিসোর্ট হচ্ছে, পর্যটন এলাকায় ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ চান্দের গাড়িও চলছে।’
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, অবৈধভাবে নির্মিত দেড় শতাধিক স্থাপনাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আরও স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তালিকা করা হবে।
টুপটুপের ওই ঘটনার পরদিন ১৮ অক্টোবর ঢাকা থেকে বান্দরবানে ঘুরতে গিয়েছিলেন সাত বন্ধু। পাহাড়ের সৌন্দর্যে দুই দিন কাটিয়ে গত বুধবার তাঁরা পৌঁছান কক্সবাজারে। ওঠেন হিমছড়ির প্যাঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন একটি রিসোর্টে। সমুদ্রের কাছে এসে আনন্দে সময় কাটাতে সৈকতে নামেন তাঁরা। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তে রূপ নেয় বিষাদে। সাগরে গোসল করতে নেমে ভেসে যান তাঁদের দুজন। একই সৈকতে চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা আরও দুই বন্ধুরও প্রাণ যায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম থেকে আসা চাকরিজীবীরা রয়েছেন।
এদিকে পূজার টানা ছুটিতে বান্দরবান ও রাঙামাটির সাজেকে বেড়াতে গিয়েছিলেন কয়েক হাজার ব্যক্তি। এর মধ্যে গত বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। ওই দিনই সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে যেতে বলে তারা। এ অবস্থায় সাজেকে আটকা পড়েন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের মধ্যে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। ঘুরতে গিয়ে এমন ভয়নাক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন ওই সব পর্যটক।
পাহাড়ে এমন নিরাপত্তাঝুঁকির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারণে পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। ৫ অক্টোবর বান্দরবানের থানচি উপজেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র তিন্দুতে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে দুজন নিহত হন, আহত হন আরও পাঁচ পর্যটক। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের হিমছড়ি মেরিন ড্রাইভে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক পর্যটক নিহত হন। গত ২৪ আগস্ট সিলেটের জাফলং যাওয়ার পথে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন আরও এক পর্যটক।
এর আগে ১ আগস্ট কক্সবাজারের দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে পড়ে শৌভিক রায় নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে তখন বেশ শোরগোল হয়। অনিরাপদ প্যারাসেইলিং নিষিদ্ধ করা হয়।
দেশ রূপান্তর
‘অবৈধ হর্নে সর্বনাশ’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর আফতাবনগরের বাসিন্দা নওশাদ বেগম তার আড়াই বছর বয়সী শিশু মাইসাকে নিয়ে আইডিয়াল স্কুল বনশ্রী শাখার সামনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে তার ছেলে অনিক ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এমন সময় আলিফ পরিবহনের একটি বাস সজোরে হর্ন বাজাতে বাজাতে পাশেই স্টপেজে থামে। পেছনে আসা একই পরিবহনের অপর একটি বাস আরও জোরে হর্ন বাজিয়ে সামনে থাকা বাসটিকে ওভারটেক চায়। সড়কে ডিভাইডার থাকায় স্থানটিতে একটি বাস দাঁড়ালে অপর বাস অতিক্রম করার জায়গা নেই। তাই তারা হর্ন বাজিয়েই চলে। হর্নের বিকট শব্দে বারবার কেঁপে ওঠে ছোট্ট শিশু মাইসা। টের পেয়ে মা তার সন্তানের দুই কান হাতে চেপে ধরে একটু দূরে সরে যান। এদিকে আরও কয়েকটা প্রাইভেট কার, অটো, মোটরবাইক এবং একটা অ্যাম্বুলেন্সও ওই যানজটে আটকা পড়ে। এ সময় প্রত্যেক গাড়ির হর্নে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিশু মাইসা আতঙ্কে কেঁদে ওঠে। গত ১৫ অক্টোবর নওশাদ বেগম দেশ রূপান্তরকে এই ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, ‘সময়টা ছিল আগস্টের মাঝামাঝি এক দুপুর। এরপর থেকে আমার বেবির ট্রমা কাটেনি। কোনো গাড়ির সামনে তো দূরে থাক; সড়কেও যেতে চায় না সে।’
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, এমন অতিমাত্রার শব্দযন্ত্রণা শিশুর ঘুম, শ্রবণ, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিজনিত মস্তিষ্কের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ছাড়া হঠাৎ শব্দদূষণ মানবদেহের আদ্রেনালাইন ও কর্টিসলের মতো হরমোনকে প্রভাবিত করে অস্বাভাবিক হার্টবিট সৃষ্টিসহ উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। প্রতি বছর অতিমাত্রার আকস্মিক শব্দদূষণ দীর্ঘমেয়াদে লাখ লাখ মানুষকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউএন পরিবেশ কর্মসূচি (ইউনেপ) ২০২২ সালে ঢাকাকে বিশ্বের শীর্ষ শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী নগরগুলোর র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে স্থান দিয়েছে। সংস্থাটির পরবর্তী কোনো গবেষণায়ও ঢাকার অবস্থান পরিবর্তিত হয়নি। ওই প্রতিবেদনে ইউনেপ জানায়, ঢাকায় গণপরিবহনে সৃষ্ট শব্দদূষণের তীব্রতা ১১৯ ডেসিবল; যা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। শব্দদূষণের মাত্রা ১১৪ ডেসিবল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের মুরাদাবাদ। তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, দূষণমাত্রা ১০৫ ডেসিবল। ইউরোপীয় জার্নাল জানায়, বিশ্বে অনুমোদিত শব্দদূষণের মাত্রা ৫৫ ডেসিবল, যা মানবদেহের জন্য সহনীয়।
ওই দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজস্ব প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মোটরযানে উচ্চমাত্রার হর্ন ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ঢাকার শব্দদূষণে গণপরিবহনে ব্যবহৃত হর্নের দায় নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার বন্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান আছে। কিন্তু এই অতিমাত্রার হর্ন ব্যবহার এক ধরনের অভ্যাস বা প্রবণতা। হঠাৎ অভিযান করে, জরিমানা করে আসলে কাজ হয় না। আমাদের দরকার উন্নত প্রযুক্তি।
তিনি বলেন, চীনের সাংহাইসহ একাধিক নগরীতে অবৈধ হর্ন রোধে ’অ্যাকোয়াস্টিক ট্র্যাকিং ডিভাইস’ ব্যবহার করা হয়। আমাদের এখানে ওই ডিভাইস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই ডিভাইস উচ্চপ্রযুক্তির মাধ্যমে অতিমাত্রার হর্ন ব্যবহারকারী পরিবহন নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে ও কন্ট্রোল রুমে সিগনাল পাঠায়। এতে ট্রাফিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পরিবহনটিকে সহজে পাকড়াও করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়মিত ধারাবাহিকভাবে নিতে পারলে পরিবহন মালিক ও ব্যবহারকারীরা সতর্ক হবে।
আনিসুর রহমান আরও জানান, ‘অ্যাকোয়াস্টিক ট্র্যাকিং ডিভাইস’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আশা করছি, শিগগিরই বরাদ্দ পেয়ে যাব। সব মিলিয়ে মাস দুয়েক লাগতে পারে। প্রথমে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে এর পাইলটিং করা হবে। এরপর অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও ব্যাপক আকারে এই ডিভাইস ব্যবহার করা হবে।
অননুমোদিত হর্নের আমদানি ও বেচাকেনা মনিটরিং নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পুলিশ একা পারবে না। জনবল সংকট নিয়ে প্রচুর রুটিন ওয়ার্ক করতে হয়। এ ব্যাপারে বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা নিয়ে কাজ করতে পারে। সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
২০২৪ সালের ১৬ মে বিআরটিএ মোটরযানে হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার না করতে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি-৮১ অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক বা উদ্ধারকাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোটরযান অথবা রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ছাড়া অন্য যেকোনো মোটরযানে পরপর বিভিন্ন সুর প্রদানকারী বহুমুখী হর্ন অথবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট বা ভীতিকর শব্দের হর্ন বা যন্ত্র সংযোজন বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অননুমোদিত হর্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করা ছাড়াও চালকগণকে বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে মোটরযান চালাতে উৎসাহিত করে, এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কিছু কিছু মোটরযানে হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন সংযোজন করে ব্যবহার করার ফলে গণ-উপদ্রবের সৃষ্টি হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ইউরোপে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটে চাপে পোশাক রপ্তানি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতিজনিত বিক্ষোভ, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং প্রতিদ্বন্দ্বী উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা।
রপ্তানি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা দেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি আয়ের খাতটির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেশের রপ্তানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের ১৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে, যা ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ রপ্তানি আয় কমার ক্ষেত্রে পণ্যের গড় মূল্য হ্রাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি: ইউরোপ-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানির দামও বেড়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ফ্রান্স ও ইতালিও রয়েছে।
সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিক্ষোভ কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তবে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভোগব্যয় ও বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে ভোক্তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিতে পারেন। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাঁর মতে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঝুঁকি এখনো কাটেনি। সংকটে থাকা কারখানাগুলোর জন্য স্বচ্ছ ও নমনীয় প্রণোদনা চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেন। সালাউদ্দিন বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। মজুরি সমন্বয়ের বিষয়েও শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বাস্তবসম্মত আলোচনা প্রয়োজন, যাতে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে না পড়ে। কর্মসংস্থান সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পণ্য সরবরাহকারী রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। শীতকালে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা ও দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও চলমান অস্থিরতা বিবেচনায় ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আগামী দিনগুলোতে সংকুচিত হতে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ আরও বেশি। কারণ দেশের রপ্তানি বাজার কয়েকটি অঞ্চলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে বড় কোনো বাজার গড়ে তুলতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানার ক্রয়াদেশে ধাক্কা : বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) এক জরিপে দেখা গেছে, জ্বালানি সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর ক্রয়াদেশ বাতিল অথবা কমিয়ে দেওয়ার মুখে পড়েছে ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
