কেন ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও ডিভিশন ব্যবস্থা চাইলেন গাভাস্কার
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
ফুটবলে লিগ পর্যায়ে উন্নতি ও অবনমন একটি চিরচেনা নিয়ম ব্যবস্থা। যা নির্ধারণ করে দলগুলোর উপরের স্তরে বা নিচের স্তরে খেলা। একই নিয়ম ক্রিকেটেও চাইছেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের কিংবদন্তি সাবেক ব্যাটার আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টির ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মূলত ক্রিকেটে ফুটবলসুলভ ডিভিশন বা স্তরভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করতে বলছেন গাভাস্কার। বলেছেন, রঞ্জি ট্রফির ক্ষেত্রেও এমনকিছু ভাবা প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ হিসেবে মঙ্গোলিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার সাম্প্রতিক একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের কথা তুলে ধরেছেন। ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সাব-রিজিওনাল এশিয়া কোয়ালিফায়ার ‘এ’তে ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মঙ্গোলিয়া মাত্র ১৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল।
মঙ্গোলিয়ার এই ইনিংসের বিষয়ে গাভাস্কার লিখেছেন, ‘অবশ্য এই ফরম্যাটে এটি সর্বনিম্ন স্কোর নয়। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড আইভরি কোস্টের দখলে, যারা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৭ রানে অলআউট হয়েছিল। ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আরেকটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচে মঙ্গোলিয়া মাত্র ১০ রান করেছিল। প্রশ্ন হল, এত শক্তির দলের মধ্যকার এসব ম্যাচের পরিসংখ্যান রেকর্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আগে কোন ন্যূনতম মানদণ্ড থাকা উচিত কিনা।’
‘যখন কোন দল এমন অল্প রানে অলআউট হয়ে যায়, তখন বোলারদের পরিসংখ্যান ভালো হতে পারে, সেটা হতে পারে যখন আইসিসির উদীয়মান সহযোগী সদস্য দেশগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলবে সেক্ষেত্রে। পূর্ণসদস্য দেশগুলোর মধ্যকার ম্যাচের পরিসংখ্যানের সাথে এটির তুলনা করাটা মোটেও ন্যায্য কিছু নয়।’
‘ফুটবল লিগগুলোতে বিভিন্ন ডিভিশন বা স্তর থাকে, যেখানে মৌসুম শেষে প্রমোশন (উন্নয়ন) ও রেলিগেশন (অবনমন) ব্যবস্থা থাকে। ফলে যে ডিভিশনে কোন রেকর্ড গড়া হয়, সেটি সেভাবেই উল্লেখ করা হয়। হয়তো ক্রিকেটেও এমনকিছু ভাবা যেতে পারে, যাতে দেশগুলো কোন ডিভিশনে খেলছে তার ভিত্তিতে পার্থক্যটা সবার কাছে স্পষ্ট থাকে।’
গাভাস্কার নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরির উদাহরণও টেনেছেন। যিনি দ্রুততম টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ফিফটির ক্ষেত্রে যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। ২০০৭ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুবরাজ মাত্র ১২ বলে ফিফটির কৃতিত্বে নাম লিখেছিলেন, সেই ম্যাচে তিনি স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে টানা ৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আইরি একই কাজটি করেছেন মাত্র নয় বলে।
‘কোন ভুল মনে করবেন না, নেপাল দ্রুত উন্নতি করছে। যেমন আমরা চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখেছি। যেখানে তারা প্রায় ইংল্যান্ডকে হারিয়েই দিচ্ছিল। তাদের ব্যাটার ও বোলাররা যখন অন্য সহযোগী দেশগুলোর দলকে বিধ্বস্ত করে, তখন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু সেটা আদৌ রেকর্ড হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত?’
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
