মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, দ্রুত বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সৈয়দ স্বাধীন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
সাতলায় যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদার হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলায় যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদার (৩৭) হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে সাতলার একতা বাজারের প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক আব্দুল হক হাওলাদার। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হাওলাদার, যুবদল নেতা রাশেদ আমিন হাওলাদার, নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার, সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ ও সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হাওলাদার।
বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তাঁরা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান। পাশাপাশি এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

কর্মসূচিতে নিহতের স্ত্রী সাগরি বেগম, তিন মেয়ে ফাতেমা, নুসরাত ও তায়েবা এবং চার বছরের ছেলে আবু হুরায়রাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকায় কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাওসারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগোযুক্ত মাইক্রোবাসে পালানোর সময় পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার টোল প্লাজা এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার ২৪ অক্টোবর উজিরপুর মডেল থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে না যান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

