সংসদে বিরোধী দলের কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া কিংবা প্রয়োজনে ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাই লংমার্চ বা একতরফা আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিরোধী দলকে সংসদে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আগামী ৯ নভেম্বর থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে বিরোধী দল অবাধে কথা বলতে পারবে। স্পিকারও তাদের যথেষ্ট সুযোগ দেন। ওয়াকআউট শেষে আবার সংসদে ফিরে আসার অধিকারও বিরোধী দলের রয়েছে। সংবিধানে বিরোধী দলের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।’
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই ও আগস্টের শহীদদের নিয়ে যারা সারাক্ষণ রাজনীতি করেন ও কথা বলেন, তারা আমন্ত্রণ পেয়েও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এতে তারা ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে সরকারের উদ্যোগে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ১০ বছর পর ওসমানী উদ্যানও উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম টেলিফোনেও আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবাসহ চার শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন। সেখানে গেজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম রয়েছে। অথচ জুলাই নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কথা বলেন, সেই রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।’
আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় অনুষ্ঠানে যাননি বলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ যুক্তি সঠিক নয়। প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আমন্ত্রণপত্রে ছিল না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন। বিরোধী দলের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে তাদের প্রতিনিধিদেরও মঞ্চে ডেকে নেওয়া হতো।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আরেকটি বক্তব্যের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল চকলেট পাচ্ছে। অতীতে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি বসার জায়গাটুকুও পায়নি। অথচ বর্তমান বিরোধী দল সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।’
নির্বাচনের সময় বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়ে এখন সস্তা রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটের আগে মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখানো হয়, আবার পূজার সময় ঢাকের তালে নাচা হয়। অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজামণ্ডপে তাদের দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীরা এখন এক দফার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ আগেও দেখেছে। বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না। এ দেশে সবাই বাংলাদেশি। সবার হৃদয় জয় করেই বিএনপি আবারও জনগণের কাছে যাবে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘সনদটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ খালি রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে সহযোগিতা করছে না।’
সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে যুক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ জন্য যেকোনো সময় পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাকস্বাধীনতার নামে বিরোধী দলের নেতাদের অশালীন ভাষা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপরও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হলে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না।’
দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিএনপির মধ্যেও বট রয়েছে। দলের মধ্যে কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিভাবান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী।
/অ
