ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে আগামী ৫ নভেম্বর আবারও ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, মজুরি বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভের প্রথম দিকে পরিস্থিতি অনেকটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি লিয়োঁ, নঁত, মার্সেই, লিল ও গ্রেনোবলসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কয়েকটি শহরে দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির চূড়ান্ত সংখ্যা ও শহরভিত্তিক হিসাব যাচাই করা জরুরি। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও সরকারি হিসাব ও আয়োজকদের দাবির মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
আগের বিক্ষোভগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে ২৪ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, রেলস্টেশন, জনসমাগমের স্থান ও বিক্ষোভের আশপাশে পুলিশ ও জেনদারম মোতায়েন করা হয়। সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে- এমন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
পাশাপাশি দোকানপাট ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এসব পদক্ষেপের পরও কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনের পেছনে রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি, মজুরি নিয়ে অসন্তোষ, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে মজুরি বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সরকারি পরিষেবার উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবারও ধর্মঘট ও বিক্ষোভের কর্মসূচি সামনে এসেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সেদিন কোন কোন শহরে কত বড় পরিসরে বিক্ষোভ হবে এবং পরিবহনসহ জনসেবামূলক খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিশ্চিত হতে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
নতুন ধর্মঘটকে সামনে রেখে ফ্রান্সে জনজীবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবহনব্যবস্থা, দোকানপাট ও বাণিজ্যিক এলাকায় সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভের অভিজ্ঞতার পর আগামী কর্মসূচিতে প্রশাসন কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেদিকেও নজর থাকবে। একদিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করছে সরকার।
