সীমান্তের কাঁটাতারে মায়ের শেষ বিদায়, মৃত্যুর পর মুখ দেখলেন বাংলাদেশি মেয়ে
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১:৫৮ অপরাহ্ণ
মেহেরপুর নিউজ:
জীবিত থাকা অবস্থায় দীর্ঘদিন মায়ের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি। দুই দেশের সীমান্ত আর কাঁটাতারের বেড়া মা-মেয়ের মাঝে তৈরি করেছিল দূরত্ব। অবশেষে মায়ের মৃত্যুর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখলেন বাংলাদেশের মেয়ে জান্নাতুল। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বামী ফিজির আলী। বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে মায়ের শেষ মুখ দেখার সুযোগ পান তিনি।
জান্নাতুলের মায়ের নাম জায়ারা খাতুন। তাঁর বাড়ি ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার মালিয়াপোতা গ্রামে। আর জান্নাতুলের বাড়ি বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। দুই গ্রামের দূরত্ব খুব বেশি না হলেও মাঝখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায় দীর্ঘদিন মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি মেয়ে।
বৃদ্ধা জায়ারা খাতুন বার্ধক্যজনিত কারণে ভারতের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা জাগে জান্নাতুলের মনে। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় সেই সুযোগ তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভারতের দিক থেকে জায়ারা খাতুনের মরদেহ নাজিরাকোনা সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় আনা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে মায়ের শেষ মুখ দেখেন জান্নাতুল। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী ফিজির আলী।
ঘটনাস্থলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলাম এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ইন্সপেক্টর এস কে রায়সহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জীবিত থাকা অবস্থায় সীমান্তের কারণে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও মৃত্যুর পর শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জান্নাতুল। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ সীমান্তের কঠোর বাস্তবতার মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
