দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উদ্বোধন হলো বার্ষিক জাতীয় ক্রীড়া আয়োজন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস সামিট’ (এনএসএস)। প্রথম মৌসুমে ফুটসাল, ক্রিকেট, ম্যারাথন ও সাইক্লিংসহ ছয়টি আয়োজন থাকছে। প্রতিটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ‘মাদককে না বলুন’ প্রচারণা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামিটের সফট লঞ্চ ঘোষণা করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। এনএসএস হাই কাউন্সিলের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এনএসএস ২০২৬ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিতে উৎসর্গ করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা রয়েছেন, উপদেষ্টারা রয়েছেন, সবাই বাংলাদেশের স্পোর্টসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। সবাই আন্তরিকভাবে আমাকে সহযোগিতা করছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সহযোগিতা করছেন।’
দেশে খেলার মাঠের সংকটের কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান, এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার ইউনিয়নে এক হাজার মাঠের তথ্য সংগ্রহ করে সেখানে খেলা শুরু করে দিতে পারি।’
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি এবং তরুণদের মাঠমুখী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ন্যাশনাল স্পোর্টস সামিটের প্রথম মৌসুমে থাকছে ছয়টি আয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট ফুটসাল এবং ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, জাতীয় ম্যারাথন ও এনএসএস সাইক্লিং ক্লাসিক।
ফুটসালে বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট, দুটি বিভাগে প্রতিযোগিতা হবে। প্রতি দলে মাঠে খেলবেন পাঁচজন। বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের প্রতিযোগীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এবং কর্পোরেট বিভাগের খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ক্রিকেট প্রতিযোগিতাও হবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট, দুটি বিভাগে। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে টি-টেন ফরম্যাটে, যেখানে প্রতিটি দল ব্যাট করার সুযোগ পাবে ১০ ওভার। বিশ্ববিদ্যালয় দলে খেলবেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা এবং কর্পোরেট দলে অংশ নেবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
দৌড়প্রেমীদের জন্য জাতীয় ম্যারাথনে থাকছে চারটি বিভাগ। ৫ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার, হাফ ম্যারাথন (২১.১ কিলোমিটার) ও ফুল ম্যারাথন (৪২.২ কিলোমিটার)। ফুল ম্যারাথনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সামিটের মৌসুম।
অন্যদিকে, সাইক্লিংয়ে আগ্রহীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এনএসএস সাইক্লিং ক্লাসিক। এতে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ কিলোমিটার। চারটি দূরত্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিটি ইভেন্টে ‘মাদককে না বলুন’ প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো এবং সুস্থ জীবনযাপনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতে চায় আয়োজকেরা।
