জমি কেনা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করতে নামজারি গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি এবং জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান তৈরির জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামার বিধান স্পষ্ট করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একটি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ওয়ারিশের আইনগত প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করতে হবে। যৌথ নামজারির জন্য বণ্টননামা দলিল বাধ্যতামূলক নয়। তবে পৃথক খতিয়ান করতে হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হবে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদেও এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকারীরা চাইলে ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে যৌথভাবে নামজারির আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মোট জমির বিপরীতে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য অংশ উল্লেখ করে একই খতিয়ানে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, বণ্টননামা দলিল না থাকার কারণে সব ওয়ারিশের যৌথ নামজারির আবেদন নামঞ্জুর করা যথাযথ নয়। ফলে যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে বণ্টননামা না থাকাকে আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রথমে আপস-বণ্টননামা দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে কোন ওয়ারিশ কোন দাগে বা দাগের কোন অংশে জমি পাবেন, তা নির্ধারণ করা হবে।
এরপর নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে প্রত্যেকে নিজের বরাদ্দ করা অংশের জন্য পৃথক নামজারির আবেদন করতে পারবেন। পৃথক খতিয়ানের মাধ্যমে প্রত্যেকের জমির হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ এবং পৃথকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা যায়।
জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের অবস্থার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত প্রয়োজন হয়—
১. জমি কেনা হলে নিবন্ধিত দলিলের কপি। ২. আগের খতিয়ানের কপি। ৩. জমির দাগ নম্বর ও পরিমাণের বিবরণ। ৪. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য। ৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ। ৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসনদ ও অন্যান্য উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নথি। ৭. পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা দলিল। ৮. নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের তথ্য এবং কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি। ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যায়। আবেদন করার আগে সব ওয়ারিশের নাম, জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর ও মালিকানার তথ্য যাচাই করা জরুরি।
নামজারির আবেদন করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করা যায়। আবেদনকারীকে প্রথমে জমির অবস্থান, খতিয়ান, দাগ নম্বর, মালিকানা অর্জনের ধরন এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী দলিল, খতিয়ান ও প্রযোজ্য অন্যান্য কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন জমা দিতে হবে।
উত্তরাধিকার সূত্রে জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ সংযুক্ত করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করা যাবে।
জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর এবং মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তবে নামজারি একাই জমির চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ নয়। নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নথি, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমির মালিকানা অর্জনের পর প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের পাশাপাশি যথাসময়ে নামজারি সম্পন্ন করা জরুরি। আবেদন করার আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা ও সরকারি পোর্টালে দেওয়া তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
The post জমির নামজারির নিয়মে বড় পরিবর্তন, যেভাবে করবেন আবেদন appeared first on ভোরের চেতনা.
