সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত সব দম্পতির ক্ষেত্রে একই সময়ে আসে না। একজন হয়তো দ্রুত পরিবার শুরু করতে চান, অন্যজন আবার ক্যারিয়ার, আর্থিক স্থিতিশীলতা কিংবা মানসিক প্রস্তুতির জন্য আরও সময় নিতে চান। এ নিয়ে সম্পর্কে তৈরি হতে পারে মানসিক চাপ ও মতবিরোধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে খোলামেলা আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
সন্তান নেওয়া নিয়ে কেন মতের অমিল
সন্তান নেওয়ার বিষয়ে দম্পতিদের ভিন্নমতের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। কেউ সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান। কেউ আবার ক্যারিয়ারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো কিংবা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় নিতে চান।
সন্তান জন্মের পর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও দায়িত্বে বড় পরিবর্তন আসে। এসব বিষয় নিয়েও কারও কারও মধ্যে উদ্বেগ কাজ করতে পারে। এ ছাড়া আগের কোনো শারীরিক সমস্যা, প্রজননক্ষমতা নিয়ে দুশ্চিন্তা কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কের কিছু বিষয় সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঙ্গীকে বারবার ‘কবে সন্তান নিতে প্রস্তুত হবে’ জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে তার দ্বিধার কারণ বোঝার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর।
প্রয়োজন খোলামেলা আলোচনা
সন্তান নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য এমন সময় বেছে নেওয়া উচিত, যখন দুজনই শান্ত থাকেন এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কথা বলতে পারেন। একজনের মত অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে, প্রত্যেকের ইচ্ছা, ভয় ও উদ্বেগের কারণ খোলাখুলিভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মতপার্থক্যকে সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান নেওয়ার বিষয়ে একজনের আগ্রহকে যেমন গুরুত্ব দিতে হবে, তেমনি অন্যজনের মানসিক প্রস্তুতির অভাবকেও অবহেলা করা উচিত নয়।
প্রজননক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ, কী করবেন?
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় বয়স ও প্রজননক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে কেউ গর্ভধারণের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে চাইলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা প্রয়োজন। তবে ব্যক্তিভেদে প্রজননক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়।
প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে দম্পতিরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। এতে নিজেদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সম্ভাব্য বিকল্পগুলো সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সঠিক তথ্য দেওয়া, কাউকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই সন্তান নিতে বাধ্য করা নয়।
সমাধানে একসঙ্গে এগিয়ে আসা জরুরি
সন্তান নেওয়ার বিষয়ে মতের অমিল থাকলে দম্পতিরা আর্থিক পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা কিংবা সম্পর্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন। বারবার আলোচনায় বিরোধ তৈরি হলে দাম্পত্য কাউন্সেলিংয়ের সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে কারও তাড়াহুড়া যেমন অন্যজনের উদ্বেগকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়, তেমনি অকারণে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উপেক্ষা করা ঠিক নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং চিকিৎসাবিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে উদ্বেগ কমানো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস