বৃষ্টিভেজা এমিরেটস স্টেডিয়ামে এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়েছে আর্সেনাল। শনিবারের এই জয়ে আবারও নিজেদের সেট-পিস থেকে গোল করার দক্ষতা দেখিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। সতীর্থের কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল পেয়ে গোল করেন এজরি কনসা। গত আগস্টে অ্যাস্টন ভিলা থেকে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে এটিই ছিল তার প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্সেনালের আরেক ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস। ডান দিক থেকে বেন হোয়াইটের বাড়ানো ক্রসে লাফিয়ে হেড করে বল জালে পাঠান তিনি।
দিনের প্রথম ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার কাছে ম্যানচেস্টার সিটির ২-১ গোলে হারের পর আর্সেনালের সামনে শীর্ষে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে গানাররা।
এই জয়ে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২১। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
মাঝ সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ড্রয়ের ম্যাচে পেশিতে চোট পান বুকায়ো সাকা। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ আর্তেতা। দুই প্রান্তে ননি মাদুয়েকে ও এবেরেচি এজেকে খেলান তিনি।
চোটের কারণে ক্রিস্টোস জোলিসও ছিলেন মাঠের বাইরে। অন্যদিকে, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও লিয়ান্দ্রো ত্রোসারকে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বিক্রি করে দেওয়ায় আক্রমণভাগে বিকল্প খেলোয়াড়ের সংখ্যাও কমে গিয়েছিল আর্সেনালের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। সপ্তম মিনিটে নিজেদের তৃতীয় কর্নার থেকে গোলের দেখা পায় তারা। মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া কর্নারে হেড দিয়ে বলের দিক পরিবর্তন করেন গ্যাব্রিয়েল। এভারটনের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড বলটি ছোঁয়ার চেষ্টা করলেও তা চলে যায় কনসার কাছে। কাছ থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেনাল্টির বাইরে সেট-পিস থেকে এটিই ছিল আর্সেনালের প্রথম গোল। গত মৌসুমে সেট-পিস থেকে একের পর এক গোল করে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিল দলটি।
গোল হজমের পর পাল্টা আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে এভারটন। তবে বেন হোয়াইটের গায়ে লেগে থিয়ের্নো জর্জের শট বাইরে চলে যায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অবশ্য বেশির ভাগ সময়ই ছিল আর্সেনালের হাতে।
ডান প্রান্তে দুর্দান্ত খেলেন মাদুয়েকে। ম্যাচের আধা ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তার নেওয়া শট জালের বাইরের অংশে লাগে।
বিরতির ঠিক আগে বড় বিপদে পড়তে পারত আর্সেনাল। বেন হোয়াইটের অসতর্ক হেড থেকে বল পেয়ে যান এভারটনের থিয়ের্নো ব্যারি। তবে ঠিকমতো শট নিতে না পারায় সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বল ঠেকিয়ে দেন আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।
বিরতির আগে মিকেল মেরিনোর হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে ১৩টি শট ও ১০টি কর্নার পেয়েও মাত্র এক গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১০ মিনিট পর বল আটকাতে গিয়ে ব্যথা পান গ্যাব্রিয়েল। তবে মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার খেলায় ফেরেন তিনি।
৬৮তম মিনিটে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড়কে মাঠে নামান আর্তেতা। কাই হাভার্টজ, ব্রুনো গিমারায়েস ও রিকার্দো কালাফিওরি যোগ দেন দলে।
এর কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় গোল পায় আর্সেনাল। ডান দিক দিয়ে গড়ে ওঠা চমৎকার আক্রমণের পর বেন হোয়াইটের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন গ্যাব্রিয়েল।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হয় তরুণ ম্যাক্স ডাউম্যানকে। গত মৌসুমে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচেই প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
শেষ দিকে কিয়েরন ডিউসবারি-হলের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলের ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় এভারটন।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। সিটির হারের পর গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল দলটি।
