বিরোধী দলের বিরোধিতার রাজনীতির কারণে স্বৈরাচারের আসার পথ উন্মুক্ত হলে তার পরিণাম ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এবং আধুনিকভাবে নির্মিত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। উদ্যানের পাশে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু সেটি অবশ্যই গঠনমূলক বিরোধিতা হতে হবে। আজকে বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তাহলে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য কোনো ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও একইভাবে গাদ্দারি করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন ঠিক একইভাবে অন্য যে রাজনৈতিক দল, যাদের সঙ্গে বিএনপি নির্বাচন করেছে সেই দলগুলোকে বাংলাদেশের জনগণ বিরোধী দলের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। অর্থাৎ সংসদের সরকারি দল বা বিরোধী দলের অর্থ হচ্ছে যে সেখানে জনগণের স্বার্থ দেশের স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হবে, আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হবে। সিদ্ধান্তের পরে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিষ্কারভাবে যদি আমরা বলি, আমরা দেখতে পাই সেটি হচ্ছে, বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্যই শুধু বিরোধিতা করছে; আপাতত উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে এটি মনে হচ্ছে। এখন বিরোধিতা করার জন্যই যদি বিরোধিতা হয় আমরা যদি সেই পুরনো কালচারে থেকে যাই তাহলে দেশকে সামনে কী করে এগিয়ে নিয়ে যাব?
বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারপ্রধান বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন জুলাইতে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদের ঘিরে। সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা তাদেরকে যেমন দাওয়াত দেওয়া হয়েছে ঠিক একইভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের নেতাসহ দলের যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়। আজকে প্রশ্ন আপনারা (বিরোধী দল) আজকে দাওয়াতে আসলেন না। যদি সরকারের এই মঞ্চে বসার দরকার ছিল না। কিন্তু সত্যিকারভাবে যদি আপনারা জুলাইকে ধারণ করেন; আপনারা তো এসে জুলাই শহীদ মানুষগুলোর সঙ্গে তো বসতে পারতেন। কোথায়? আমরা তো আজকে আপনাদের দেখছি না। এই মঞ্চে বসার দরকার নেই ঠিক আছে। সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে; যদি দূরত্ব আপনারা রাখতে চান তাতে কোনো সমস্যা নেই। যে মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধী দলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, আপনারা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত লাভ করেছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত লাভ করেছেন সেই মানুষগুলোর মাঝে তো আপনাদের দেখতে পাচ্ছি না। এই মানুষগুলোর মাঝেও এসে বসতেন, আমরা তাহলে বুঝতে পারতাম আপনারাও জুলাই ধারণ করেন। দোষারোপের রাজনীতি বাদ দিতে হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, সরকার চেষ্টা করছে দেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্য। জনগণের ভোট নিয়ে যেমন আপনারা বিরোধী দলে বসেছেন জনগণের সমর্থন নিয়ে আজ আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে। সরকারি দল মানেই তারা মানুষের স্বার্থ দেখছে না, এটি বোধহয় দোষারোপ করা। এখন থেকে বের হয়ে আসা উচিত।
জনগণ স্থিতিশীলতা চায় মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, জনগণ বর্তমানে চায় স্থিতিশীলতা, জনগণ চায় শান্তি, জনগণ চায় দেশ এগিয়ে যাক। জনগণ চায় তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটুক। জনগণ যেভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা করতে চায়, নিজেদের স্বাধীনতা প্র্যাকটিস করতে চায়, ভোটের অধিকার চায়; একইভাবে তারা চায় জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ধীরে ধীরে সুদৃঢ় হয়ে উঠুক।
এডিস মশা কিন্তু সরকার ও বিরোধী দল চিনে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পত্রপত্রিকা খুললেই এখন ডেঙ্গুর বিষয়টি দেখছি। ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে আপনারা খেয়াল করেছেন গত প্রায় দেড় মাস ধরে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু রেখেছি। লক্ষ্য ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনা। বিরোধী দলকে বলব— আসুন সবাই মিলে নিজেকে ডেঙ্গু নির্মূলে নিয়োজিত করি।
ওসমানী উদ্যানকে পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওসমানী উদ্যানের যে আধুনিকায়ন কমপ্লেক্সটি বহু বছর বন্ধ হয়ে পড়েছিল বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটিকে সুন্দরভাবে সংস্কার করে স্মৃতিস্তম্ভ সম্পূর্ণভাবে তৈরি করে উদ্বোধন করছি। ওসমানী উদ্যানকে পরিষ্কার রাখুন, ময়লা-আবর্জনা যাতে না ফেলে সেদিকে সকলে নজর রাখুন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল আলম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্প সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা। আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি— কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।’
সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি
গতকাল সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ি। তিনি বলেছেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি দেশের প্রতি দায়িত্বও রয়েছে। রাষ্ট্র সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, আর নাগরিকদের দায়িত্ব একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করা।
মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভু্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, এসব সংগ্রামে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশ নিয়েছে। অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে সব মানুষ উপকৃত হবে। তাই সবাইকে মানুষ ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠানটিকে আনন্দ ও মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেন।
