ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে ওঠার সমীকরণটা কঠিন ছিল, কিন্তু অসম্ভব নয়! প্রয়োজন ছিল অন্তত ৪১ রানের জয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আজ টস জিতে ব্যাটিংও বেছে নিয়েছিলেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু যে ব্যাটিং দিয়ে বড় জয়ের ভিত গড়ার কথা, সেই ব্যাটিংয়েই কিনা চরম বিপর্যয়! পারভেজ হোসেন ইমনের একক লড়াই আর সাইফ হাসানের সঙ্গে তার প্রতিরোধ ছাড়া বাংলাদেশকে বলার মতো কিছুই দিতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস।
আবুধাবিতে শুরুটা হয়েছিল ভয়াবহ। ইনিংসের শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান তুলতেই চার ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে এমন শুরু যে কতটা চাপ তৈরি করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ১০০ রান পার করাই বুঝি কঠিন হয়ে যাবে।
সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন পারভেজ ও সাইফ। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। একদিকে উইকেট আঁকড়ে রেখে ইনিংস গড়েছেন সাইফ, অন্যদিকে সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন পারভেজ। তাদের জুটিতেই তিন অঙ্ক পেরিয়ে লড়াই করার মতো সংগ্রহের আশা দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ।
তবে ১২১ রানের মাথায় সাইফের বিদায়ের পর আবারও পথ হারায় দল। ৮২ বলে ৪১ রান করে ফিরেছেন তিনি। এরপর যেন একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শেষ পাঁচ উইকেটে যোগ হয়েছে মাত্র ৩৯ রান। শুরুতে ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর শেষ ৩৯ রানের মধ্যে পড়েছে আরও ছয় উইকেট।
বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল পারফরম্যান্স পারভেজের। ৯৬ বলে ৭০ রান করে দলের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তিনি। তার ব্যাট থেকেই এসেছে ইনিংসের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। মোহাম্মদ নবির বলে কাভারের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের রান দেড়শ ছাড়িয়েছিলেন পারভেজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার লড়াইও থামে রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। সাইফ ও পারভেজ ছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন শুধু নাজমুল হোসেন শান্ত। তার সংগ্রহ ২৩ বলে ১৫ রান। সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়, আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন শূন্য রানে।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল রশিদ খান। ৩১ রান খরচায় চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়ামিনের শিকার দুই উইকেট।
বাংলাদেশের জন্য এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন। ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হবে। ১৬১ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে অন্তত ৪১ রানে হারানোর যে সমীকরণ ছিল, সেটি পূরণ করতে হলে বোলারদের অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হবে।
আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। নেট রান রেটেও অনেক এগিয়ে তারা। এমন দলের বিপক্ষে মাত্র ১৬০ রান নিয়ে লড়াই করা যে কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। এখন বাংলাদেশের ভরসা বোলাররা। ব্যাটাররা যেখানে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, সেখানে বোলাররা কি পারবেন অসম্ভবকে সম্ভব করতে?
পারভেজের লড়াই বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা মর্যাদা এনে দিলেও ফাইনালের পথ যে এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে, তা বলাই যায়। আফগানদের ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে না পারলে এবারের ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ফাইনাল স্বপ্নেরও ইতি ঘটবে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ইনিংস: ৪১.২ ওভারে ১৬০/১০ (সাইফ ৪১, তানজিদ ১, সৌম্য ০, নাজমুল ১৫, হৃদয় ০, পারভেজ ৭০, মিরাজ ২, শরীফুল ৭, আলিস ০, তাসকিন ২*, মুস্তাফিজ ০; রশিদ ৪/৩১, ইয়ামিন ২/২১।
