Published on
:
2 min read
জ়াহিরের সঙ্গে সাত বছরের সম্পর্ক সোনাক্ষীর। এখন তাঁদের দাম্পত্যে খুনসুটি, হাসি-মজার কমতি নেই। তবে এই পথ চলা যে সব সময় সহজ ছিল, তা নয়। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রেমিক-প্রেমিকা থাকাকালীন আর পাঁচটা যুগলের মতো তাঁরাও কখনও কখনও ভুগেছেন ইনসিকিউরিটিতে। তবে সেই অনুভূতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ভিত মজবুত করেছেন সোনাক্ষী সিনহা ও জ়াহির ইকবাল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তারকা দম্পতি। সোনাক্ষী জানিয়েছেন, আগে তাঁর ধারণা ছিল, সম্পর্কে প্রেমিকাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দেওয়ার দায়িত্ব মূলত প্রেমিকেরই। কিন্তু জ়াহির তাঁকে বুঝিয়েছেন, সম্পর্ককে সুরক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব দু’জনেরই।
অন্যদিকে, জ়াহির জানিয়েছেন, অতীতে কখনও ঈর্ষা, কখনও বা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন তিনি। তবে সোনাক্ষী তাঁকে সেই অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগই দেননি। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তাঁর এই আচরণই যেন জ়াহিরের মনে বিশ্বাস জুগিয়েছে।
সম্পর্কে ইনসিকিউর বোধ করা অস্বাভাবিক নয়। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয়, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে অনেক সময় মনে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু সেই অনুভূতিকে কী ভাবে সামলানো হচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করে সম্পর্কের সমীকরণ। সোনাক্ষী ও জ়াহিরের সম্পর্কও মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া কতটা জরুরি।
ইনসিকিউরিটি মানেই যে সঙ্গীকে সন্দেহ করা, তা নয়। অনেক সময় মনের ভিতর কাজ করে আশ্বাস পাওয়ার চাহিদা কিংবা হারিয়ে ফেলার ভয়। তবে সেই অনুভূতি নিয়ে খোলাখুলি কথা না বললে সমস্যা বাড়তে পারে। অকারণে প্রশ্ন করা, অতিরিক্ত চিন্তা কিংবা বার বার ভালোবাসার প্রমাণ চাওয়ার ফলে সঙ্গীর উপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে পারে দূরত্বও।
তাই নিজের মনের কথা চেপে না রেখে সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং মন দিয়ে সঙ্গীর কথা শোনাও প্রয়োজন। দু’জনে মিলে এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, যেখানে বিশ্বাস থাকবে এবং মনের কথা বলতে ভয় লাগবে না।
FAQ
১. সম্পর্কে ইনসিকিউরিটি বা নিরাপত্তাহীনতা কেন তৈরি হয়?
প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়, অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।
২. সম্পর্কে ইনসিকিউর বোধ করা কি অস্বাভাবিক?
না, সম্পর্কে কখনও কখনও নিরাপত্তাহীনতা বোধ করা স্বাভাবিক। তবে সেই অনুভূতি কী ভাবে সামলানো হচ্ছে, তার উপর সম্পর্কের সুস্থতা নির্ভর করে।
৩. সম্পর্কে ইনসিকিউরিটি দূর করবেন কী ভাবে?
নিজের অনুভূতি নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। একে অপরের কথা মন দিয়ে শুনুন এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
৪. বার বার ভালোবাসার প্রমাণ চাইলে কি সম্পর্কে সমস্যা হতে পারে?
হ্যাঁ, বার বার আশ্বাস বা ভালোবাসার প্রমাণ চাইলে সঙ্গীর উপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এতে সম্পর্কে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
৫. সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে কী কী জরুরি?
পারস্পরিক বিশ্বাস, খোলামেলা আলোচনা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা সুস্থ সম্পর্কের জন্য জরুরি।
