এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা অধরা ছিল ভারতের। মনু ভাকেরের মতো তারকা শুটার দলে থাকা সত্ত্বেও সোনার পদক জিততে পারেনি ভারত। এবার কিছুটা হলেও হতাশা আবহেই কাটালেন উদয়বীর সিধু। কায়রোতে শুটিং বিশ্বকাপে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে সোনা জিতলেন ভারতীয় শুটার। ফাইনালে তিনি হারালেন অলিম্পিক্সের জোড়া পদকজয়ী জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান রেইৎজকে।
হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে ২৪ বছরের উদয়বীর স্কোর করেন ২৪০.৬ পয়েন্ট। রেইৎজএর ঝুলিতে ২৪০.১। অর্থাৎ, মাত্র ০.৫ পয়েন্টের ব্যবধানে সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় শুটার। ২০১৬ সালের রিয়ো ডি জেনেইরো অলিম্পিকে সোনা এবং ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন রেইৎজ। অভিজ্ঞ জার্মান শুটারকে হারিয়ে তাই উদয়বীরের এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেল। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ইটালির পাওলো মোন্না। তাঁর স্কোর ২১৯.৮।
ফাইনালের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সোনার লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিলেন উদয়বীর। শেষ দুই শটের আগে রেইৎজের থেকে ০.৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন তিনি। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, সামান্য ভুলও পদকের রং বদলে দিতে পারে। কিন্তু চাপের মুখে স্নায়ুর লড়াইয়ে জিতলেন ভারতীয় শুটার। শেষ দুই শটে রেইৎজের স্কোর ৯.৬ ও ৯.৬। উদয়বীরের ১০.২ ও ৯.৮। ওই দুই শটেই ব্যবধান বাড়িয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি।
অথচ ফাইনালের আগে খুব একটা এগিয়ে ছিলেন না উদয়বীর। আট প্রতিযোগীর মধ্যে চতুর্থ স্থানে থেকে ফাইনালে ওঠেন তিনি। ছ’টি সিরিজ শেষে তাঁর স্কোর ছিল ৫৮৫। কিন্তু ফাইনালে সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে দেখা গেল তাঁকে। যোগ্যতার প্রমাণ দিলেন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। ফাইনালে ছিলেন প্যারিস অলিম্পিকে নজর কাড়া তুরস্কের শুটার ইউসুফ ডিকেচও। তবে তিনি শেষ করেন সপ্তম স্থানে। তাঁর স্কোর ১৩৮। এশিয়ান গেমসে সোনার খরা ভারতীয় শুটিংকে যে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল, বিশ্বকাপে উদয়বীরের এই জয় সেই হতাশা অনেকটাই কাটাবে।
