সংবাদ · সাধারণ
সকালে নাকি রাতে, গোসলের উপযুক্ত সময় কোনটি?
২০/১০/২০২৬

সকালে ঘুম
থেকে উঠে
গোসল করা
ভালো, নাকি
দিনের কাজ
শেষে রাতে?
এ নিয়ে
অনেকের মধ্যেই
মতভেদ রয়েছে। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে,
নির্দিষ্ট কোনো সময়কে সবার জন্য
আদর্শ বলা
যায় না। ব্যক্তিগত অভ্যাস, ত্বকের ধরন,
দৈনন্দিন কাজ
ও ব্যায়ামের
সময় অনুযায়ী
গোসলের উপযুক্ত
সময় নির্ধারণ
করা উচিত।সকালে গোসলের যেসব সুবিধাসকালে গোসল
করলে ঘুমের
জড়তা কাটিয়ে
সতেজ অনুভব
করতে পারেন।
রাতে ঘুমানোর
সময় শরীরে
জমে থাকা
ঘাম ও
তেল পরিষ্কার
করতেও এটি
সহায়ক। বিশেষ
করে রাতে
যাঁদের বেশি
ঘাম হয়,
তাঁদের জন্য
সকালে গোসল
করা উপকারী
হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ইটারনাল ডার্মাটোলজি
অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসের
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিকিৎসক ইফে জে.
রডনি এবং
মাউন্ট সিনাই
হাসপাতালের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের
চর্মরোগ বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক
চিকিৎসক
গ্যারি গোল্ডেনবার্গের
মতে, গোসলের
সময় মূলত
ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও পছন্দের ওপর
নির্ভর করে।রাতে গোসল করলে কী সুবিধা?সারাদিন বাইরে চলাফেরা করার ফলে
শরীরে ধুলাবালি,
ঘাম, তেল,
দূষিত পদার্থ
ও সানস্ক্রিন
জমতে পারে।
রাতে গোসল
করলে এসব
পরিষ্কার করে
ঘুমাতে যাওয়া
যায়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রিমিয়ার হেলথ
অ্যাসোসিয়েটসের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
সিন্ডি ওয়াসেফের
মতে, সন্ধ্যায়
গোসল করলে
সারাদিনে শরীরে
জমে থাকা
ময়লা ধুয়ে
ফেলা সম্ভব।
এতে বিছানার
চাদরও তুলনামূলক
পরিষ্কার রাখা
যায়।রাতে গোসলের
আরেকটি সুবিধা
হলো, গোসলের
পর ত্বকে
ময়েশ্চারাইজার লাগানোর জন্য পর্যাপ্ত সময়
পাওয়া যায়।
সকালে ব্যস্ততার
কারণে অনেকেই
ত্বকের যত্ন
নেওয়ার জন্য
প্রয়োজনীয় সময় পান না।ব্যায়ামের পর গোসল করা কেন জরুরি?সকালে না
রাতে গোসল
করছেন, তার
চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ
হলো ব্যায়ামের
পর শরীর
পরিষ্কার করা।
ঘাম দীর্ঘ
সময় ত্বকে
জমে থাকলে
ব্রণ বা
চুলের গোড়ায়
প্রদাহের সমস্যা
দেখা দিতে
পারে।চিকিৎসক
ওয়াসেফের মতে,
ব্যায়ামের পর গোসল করলে ত্বকের
কিছু সমস্যা
ও সংক্রমণের
ঝুঁকি কমাতে
সাহায্য করে।
ব্যায়ামাগারের সরঞ্জাম থেকেও স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া, দাদ ও
হারপিসের মতো
সংক্রমণ ছড়াতে
পারে।তাই ব্যায়াম
শেষে সুবিধামতো
দ্রুত গোসল
করে শরীর
পরিষ্কার করে
নেওয়া ভালো।তৈলাক্ত
ত্বকের জন্য কোন সময় ভালো?যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে
সকালে গোসল
করলে রাতে
জমে থাকা
ঘাম ও
তেল পরিষ্কার
হয়। অন্যদিকে,
রাতে গোসল
করলে দিনের
বেলায় ত্বকে
জমে থাকা
তেল, ধুলাবালি
ও দূষিত
পদার্থ দূর
করা যায়।গরম ও
আর্দ্র আবহাওয়ায়
ত্বক বেশি
তৈলাক্ত হলে
দিনে দুবার
গোসলের প্রয়োজন
হতে পারে।
তবে ত্বকের
ধরন অনুযায়ী
গোসলের অভ্যাস
ঠিক করা
উচিত।গোসলের সময় যেসব নিয়ম মানবেনত্বক সুস্থ
রাখতে গোসলের
সময় কয়েকটি
বিষয়ে নজর
দেওয়া প্রয়োজন:·
সময়: গোসল পাঁচ
থেকে ১০
মিনিটের মধ্যে
শেষ করার
চেষ্টা করুন।·
পানির তাপমাত্রা: অতিরিক্ত গরম
পানির বদলে
কুসুম গরম
পানি ব্যবহার
করুন।·
সাবান: সুগন্ধিযুক্ত সাবান
বা গোসলের
জেলে ত্বকে
জ্বালাপোড়া হলে সুগন্ধিবিহীন পণ্য বেছে
নিন।·
লুফা ব্যবহার: লুফায় ব্যাকটেরিয়া
ও ছত্রাক
জমতে পারে।
তাই এটি
ব্যবহার না
করাই ভালো।·
শরীর মোছা: তোয়ালে দিয়ে
শরীর জোরে
ঘষবেন না।
আলতোভাবে পানি
শুষে নিন।·
ময়েশ্চারাইজার: গোসলের পর
ত্বক সামান্য
ভেজা থাকতেই
ময়েশ্চারাইজার লাগান। চিকিৎসক ওয়াসেফের মতে,
শরীর মোছার
পর প্রথম
দুই মিনিটের
মধ্যে এটি
লাগানো ভালো।সকালে কিংবা
রাতে - গোসলের
সময় বেছে
নেওয়ার ক্ষেত্রে
ব্যক্তিগত সুবিধা ও ত্বকের প্রয়োজনকে
গুরুত্ব দিন।
নিয়মিত শরীর
পরিষ্কার রাখা,
ব্যায়ামের পর গোসল করা এবং
গোসলের পর
ত্বকের আর্দ্রতা
বজায় রাখাই
গুরুত্বপূর্ণ।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗