প্রতিদিনের ছোট্ট একটি অভ্যাস কমাতে পারে নানা রোগের ঝুঁকি। অভ্যাসটি হলো সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া। অথচ ব্যস্ততার কারণে অনেকেই হাত ধোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবহেলা করেন। অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে বিভিন্ন জীবাণু। এতে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সুস্থ থাকতে এর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
হাতের জীবাণু থেকে হতে পারে নানা রোগ
দরজার হাতল, মুঠোফোন, টাকা, গণপরিবহনের আসনসহ প্রতিদিনের ব্যবহার্য নানা জিনিস আমরা হাত দিয়ে স্পর্শ করি। এসবের মাধ্যমে হাতে জমতে পারে ময়লা ও জীবাণু। পরে অপরিষ্কার হাতে খাবার খেলে কিংবা চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করলে জীবাণু শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়।
এর ফলে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শুধু বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর নয়, দৈনন্দিন কাজের বিভিন্ন পর্যায়েও হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস জরুরি।
কেন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি?
হাত ধোয়া কেবল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, রোগের বিস্তার ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ উপায়। পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুলে হাতের ময়লা, জীবাণু ও দূষিত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এতে খাবার ও পানির মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের সুরক্ষায় হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দিনের যে সময়গুলোতে হাত ধোয়া জরুরি
কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
- খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে।
- শৌচাগার ব্যবহারের পর।
- শিশুর কাপড় বা ডায়াপার পরিবর্তন কিংবা শৌচাগার ব্যবহারে সাহায্য করার পর।
- কাশি বা হাঁচি দেওয়ার পর এবং নাক পরিষ্কার করার পর।
- বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর।
- ময়লা-আবর্জনা স্পর্শ করার পর।
- অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার আগে ও পরে।
- পশুপাখি স্পর্শ করার পর।
সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার পাঁচটি ধাপ
শুধু হাতে পানি দিলেই হাত পরিষ্কার হয় না। জীবাণু ও ময়লা দূর করতে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া প্রয়োজন।
প্রথম ধাপ: পানি দিয়ে হাত ভেজান
প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহিত পানি দিয়ে দুই হাত ভালোভাবে ভিজিয়ে নিন।
দ্বিতীয় ধাপ: দুই হাতে সাবান লাগান
হাতের তালুসহ দুই হাতের সব অংশে সাবান লাগান, যাতে কোনো অংশ বাদ না পড়ে।
তৃতীয় ধাপ: হাতের প্রতিটি অংশ ঘষুন
দুই হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, নখের চারপাশ ও বুড়ো আঙুল ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করুন।
চতুর্থ ধাপ: অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিন
তাড়াহুড়া না করে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাতের প্রতিটি অংশ ঘষুন। এতে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে সুবিধা হয়।
পঞ্চম ধাপ: পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন
পরিষ্কার প্রবাহিত পানি দিয়ে হাতের সাবান ধুয়ে ফেলুন। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে বা উপযুক্ত উপায়ে হাত শুকিয়ে নিন।
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই হাত ধোয়া শেখান
শিশুদের পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই হাত ধোয়ার গুরুত্ব শেখানো দরকার। পরিবারের বড়রা নিজেরাও নিয়মিত হাত ধুয়ে শিশুদের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে পারেন।
পাশাপাশি বিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। এতে আরও বেশি মানুষ সহজে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন।
সাবান-পানি না থাকলে কী করবেন?
কোনো কারণে সাবান ও পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হাত পরিষ্কারের তরল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা হলে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধোয়াই উত্তম।
ছোট অভ্যাসেই থাকুন সুস্থ
সুস্থ থাকতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার মতো ছোট একটি অভ্যাসও নানা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে শুধু এক দিনের সচেতনতা নয়, প্রতিদিনের জীবনে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই হোক সবার অঙ্গীকার।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ
এসি/আপ্র/১৫/১০/২০২৬
