আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় খাবারের সঙ্গে ঘি-এর সম্পর্ক বহু পুরনো। দক্ষিণ ভারতে ঘি দিয়ে ভাত খাওয়ার প্রচলন হোক কিংবা উত্তর ভারতে ডাল-ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি মিশিয়ে নেওয়া, এই অভ্যাস বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। গরম ভাতের উপর সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিলে তার গন্ধ ও স্বাদ যেমন বেড়ে যায়, তেমনই সঠিক পরিমাণে ঘি খেলে শরীরের কিছু পুষ্টিগত উপকারও হতে পারে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানেও ঘি-এর কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, ঘি কোনও অলৌকিক খাবার নয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে?
সাদা ভাতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। ফলে এটি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, খাবারে কিছুটা ফ্যাট থাকলে পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার গতি ধীর হতে পারে। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজ প্রবেশের গতিও প্রভাবিত হতে পারে। একটি গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১০৩ জনের উপর তিন মাস ধরে ঘি দিয়ে রান্না করা সাদা ভাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। তবে এই ফলাফল থেকে ঘি-ভাত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। এ বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন।
হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা
ঘি-তে কিছু স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যার মধ্যে বুটিরিক অ্যাসিডও উল্লেখযোগ্য। বুটিরেট বৃহদন্ত্রের কোষগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। তবে এক চামচ ঘি থেকে পাওয়া বুটিরেটের পরিমাণ সীমিত। তাই শুধু ঘি খেলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ফাইবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
শাকসবজির পুষ্টি শোষণে সহায়তা
গাজর, পালং শাক, কুমড়ো-সহ বিভিন্ন সবজিতে ভিটামিন ও ক্যারোটিনয়েড থাকে। ভিটামিন এ, ই ও কে এবং বিটা-ক্যারোটিনের মতো কিছু পুষ্টি উপাদান শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে খাদ্যের ফ্যাট সাহায্য করে। তাই ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি এবং সামান্য ঘি খাওয়া পুষ্টির সদ্ব্যবহারে সহায়ক হতে পারে।
কতটা ঘি খাওয়া উচিত?
ঘি-তে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। সাধারণভাবে, সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে অল্প ঘি খাওয়া যেতে পারে। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
সব মিলিয়ে, গরম ভাতে এক চামচ ঘি স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু পুষ্টিগত সুবিধাও দিতে পারে। কিন্তু সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হল পরিমিত খাবার, শাকসবজি, ডাল, পর্যাপ্ত ফাইবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চা।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
