নাসিমা খানম
- প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম
বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম।
জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।'
অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা।
রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'
নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি।
শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা।
বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন।
-
সর্বশেষ সংবাদ
জনপ্রিয়

সিডনিতে শাবনূর ও রবি চৌধুরী
- প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৬ পিএম
নায়িকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে, পাশের আসনে বসে খালি গলায় গাইছেন গায়ক—ছুটির দিন শুক্রবারে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ও গায়ক। সিডনির রাস্তায় সেই গাড়ি চালাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান। গাড়ি ছুটছে, গান চলছে, সঙ্গে জমেছে আড্ডাও। নব্বইয়ের দশকের এই দুই জনপ্রিয় তারকার বন্ধুত্ব যে এত বছর পরও আগের মতোই আছে, তাই দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।
সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন রবি চৌধুরী। তাঁর আসার খবর আগেই পেয়েছিলেন শাবনূর। তাই ঠিক করে রেখেছিলেন, সময় করে একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিল। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবি চৌধুরীকে ঘুরিয়ে দেখালেন শাবনূর। আর গাড়িতে বসে বন্ধুকে গান শোনানোর দায়িত্বটা নিলেন রবি।
গাড়ি চলতে চলতে শাবনূরের অনুরোধে তাঁর খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’। একসময় যে গান পর্দায় রিয়াজ–শাবনূরের ঠোঁটে দর্শকের মন জয় করেছিল, এত বছর পর সেই গানটি ফিরে এল পুরোনো দিনের স্মৃতি।
ঘোরাঘুরির ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। উচ্ছ্বসিত শাবনূর বললেন, ‘অসাধারণ সময় কাটছে। অনেক দিন পর দেখা আমাদের। রবি ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ মজা হচ্ছে। আমরা ঘুরছি, আমি গাড়ি চালাচ্ছি আর রবি ভাইয়ের কণ্ঠে গান—দারুণ, দারুণ।’
পরে শাবনূরের ফোনে কথা বলেন রবি চৌধুরী। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষজন তো কত কী ভাবে। অথচ আমরা ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই বন্ধু। শাবনূর একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তাঁর সিনেমা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন। আর বন্ধুত্বের কারণে আমি দেখেছি, কী অসাধারণ একজন মানুষ শাবনূর।’
বন্ধুর প্রশংসা শুনে চুপ থাকেননি শাবনূরও। বললেন, ‘রবি ভাই ভালো মানুষ না হলে তো আমাদের এত বছরের বন্ধুত্ব টিকত না। বন্ধুত্বের এই সম্পর্কটা টিকে থাকুক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।’
শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।
সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান “অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন” যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা। প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

কঙ্গনা রনৌত
- প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম
এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ায় আইনি পদক্ষেপ নিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। এসব কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার দাবিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কঙ্গনার অভিযোগ, প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এসব ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে তাকে হেয় করা হচ্ছে এবং তাঁর মানহানি ঘটানো হচ্ছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিসত্তার অধিকারও লঙ্ঘত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আদালতে কঙ্গনার আইনজীবী অভিনেত্রীকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া যৌন হয়রানির ভিডিও ও পোস্ট, ভুয়া খবর এবং এআই দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কনটেন্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব কনটেন্টে কঙ্গনার নামে ভুয়া মন্তব্যও প্রচার করা হচ্ছে বলে আদালতকে জানান তাঁর আইনজীবী।
ব্যক্তিসত্তার অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া কঙ্গনাই প্রথম নন। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি, বিশেষ করে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, তাঁদের ব্যক্তিসত্তা রক্ষা এবং এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি কনটেন্ট সরানোর দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, সালমান খান এবং অভিনেতা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ। আরও অনেকে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তিও পেয়েছেন তারা।
অভিনয়ে কঙ্গনাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ সিনেমায়। গত জুনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল।
সূত্র: এবিপি ও আনন্দবাজার অনলাইন

প্রয়াত নানা পাটেকর
- প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম
৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া বলিউডে। গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় একাধিক সিনেমা করেছেন তিনি।
নিজের ক্ষুরধার সংলাপ প্রক্ষেপণ, অনন্য অভিনয়শৈলী এবং পর্দায় তীব্র ও বাস্তবসম্মত চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার কারণে তিনি দর্শকের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য ব্যবসা সফল এবং সমালোচক-নন্দিত চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের সেরা ও কালজয়ী কিছু চলচ্চিত্রের হলো:
১. ক্রান্তিবীর (১৯৯৪)
নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আইকনিক সিনেমা এটি। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া 'প্রতাপ তিলক' চরিত্রে তার অভিনয় এবং সিনেমার শেষের সেই বিখ্যাত সংলাপ আজও দর্শকের গায়ে কাঁটা দেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
২. পরিণ্ডা (১৯৮৯)
বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত এই আন্ডারওয়ার্ল্ড ড্রামায় 'আন্না শেঠ' নামক এক মানসিক বিকারগ্রস্ত গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তার ঠান্ডা মাথার নৃশংস অভিনয় সিনেমাটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই খলচরিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
৩. অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬)
এক মানসিক অত্যাচারী ও হিংস্র স্বামীর চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় সবাইকে চমকে দিয়েছিল। মণীষা কৈরালার বিপরীতে তার এই নেতিবাচক চরিত্রটি বলিউডের অন্যতম সেরা ভিলেন চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪. ওয়েলকাম (২০০৭)
যারা ভাবতেন নানা পাটেকর শুধু গম্ভীর বা রাগী চরিত্রেই সেরা, তাদের ভুল প্রমাণ করেছিল এই কমেডি সিনেমাটি। ডন 'উদয় শেঠ' চরিত্রে তার কমিক টাইমিং এবং অনিল কাপুরের (মজনু ভাই) সাথে তার যুগলবন্দি দর্শককে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে বাধ্য করেছিল।
৫. আব তক ছাপ্পান (২০০৪)
মুম্বাই পুলিশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দয়া নায়েকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় 'সাদাম আগাশে' চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। অত্যন্ত শান্ত ও বাস্তবসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমে একজন পুলিশ অফিসারের মানসিক টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।
৬. নটসম্রাট (২০১৬)
এটি মারাঠি সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র। একজন অবসরপ্রাপ্ত থিয়েটার অভিনেতার ট্রাজিক জীবন নিয়ে তৈরি এই সিনেমায় নানা পাটেকরের অভিনয় দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কোনো দর্শক। অনেকেই মনে করেন এটি তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয়।
৭. রাজনীতি (২০১০)
মহাভারতের কৃষ্ণ চরিত্রের আধুনিক রূপায়ণ 'ব্রিজ গোপাল' হিসেবে এই পলিটিক্যাল থ্রিলারে অভিনয় করেন নানা। প্রকাশ ঝা পরিচালিত এই সিনেমায় শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এক রাজনৈতিক চালকের ভূমিকায় তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য।
নানা পাটেকর কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের সমাজসেবকও। 'নাম ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের খরা পীড়িত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বাস্তবের হিরো হয়ে উঠেছিলেন। রুপালি পর্দায় তার এই কালজয়ী সৃষ্টিগুলোর মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবি থেকে সিনেমার যাত্রা শুরু। তারপর থেকে একের পর এক দুর্ধর্ষ ছবি করে গিয়েছেন। তিনবার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন এই অভিনেতা।
১৯৮৯ সালে পরিন্দা ছবিতে ‘বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্টর’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পান, এরপর ক্রান্তি ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটাগরিতে ১৯৯৯ সালে পুরস্কার পান। তৃতীয় বার পুরস্কার আসে ১৯৯৭ সালে। ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পান তিনি। এর পাশাপাশি অসংখ্য ছবি করেছেন তিনি। রাজু বানগেয়া জেন্টলম্যান, অপরহণ, এমনকী, ‘ওয়েলকাম’ ছবির সিরিজও মন জয় করেছে দর্শকদের। ২০১৩ সালে পান পদ্মশ্রী পুরস্কার। আচমকা তার এই ভাবে চলে যাওয়া, মেনে নেওয়া শক্ত সকলের কাছে।

নানা পাটেকার
- প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ এএম
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁকে বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নানা পাটেকার হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তক ছাপ্পান’ ও ‘যশবন্ত’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬)-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পান।
এ ছাড়া ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) ও এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে ভিন্নধর্মী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিদ্ধান্ত প্রীতম-শেহতাজ
- প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম
দীর্ঘ ১০ বছর একসঙ্গে থাকার পর পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রীতম ও তাঁর স্ত্রী শেহতাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিজেদের যৌথ বিবৃতিতে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য তারা কৃতজ্ঞ। পরস্পরের প্রতি এখনও যত্ন ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা থাকাই তাদের জন্য ভালো।
তারা জানান, দীর্ঘ সময় ভেবেচিন্তে এবং পরস্পরের সম্মতিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সমর্থন নিয়ে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি এ সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রতি সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর গায়ক, অভিনেতা, সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান ও মডেল, অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম বিয়ে করেন।

‘রইদ’ সিনেমার দৃশ্য
- প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম
কানাডার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর ১২তম আসরে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’।
উৎসবের এবারের আসরে সেরা অভিনেত্রীর সম্মানসহ মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে সিনেমাটি। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক এই অর্জনে পুরো টিম ও দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে আনন্দের জোয়ার বইছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব।
কানাডার এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘রইদ’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নাজিফা তুষি। সিনেমাটিতে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে তার অনবদ্য ও প্রাণবন্ত অভিনয় আন্তর্জাতিক বিচারকদের নজর কেড়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি কারিগরি ও শৈল্পিক উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ উৎসবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার পেয়েছেন জোয়াহের মুসাভভির জ্যোতি। একই সঙ্গে সেরা সংগীতের পুরস্কারও অর্জন করেছেন রাশিদ শরীফ শোয়েব। ফলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পুরস্কার জিতে উৎসবে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে ‘রইদ’।
সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন প্রসঙ্গে নাজিফা তুষি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার জন্য ভীষণ আনন্দের এবং একই সঙ্গে আবেগেরও। “রইদ” আমার কাছে শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি এমন একটি কাজ, যার সঙ্গে অনেক মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। “সাদুর বউ” চরিত্রটি আমার জন্যও অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। চরিত্রটিকে নিজের মতো করে ধারণ করার চেষ্টা করেছি এবং নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে।
আন্তর্জাতিক একটি উৎসবে এই চরিত্রের জন্য স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। এই অর্জন আমি “রইদ”-এর পুরো টিম ও বাংলাদেশের দর্শকদের উৎসর্গ করতে চাই। দেশের একটি সিনেমা যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পায়, তখন সেই আনন্দটা আসলে একার থাকে না, সবার হয়ে যায়।’
তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জনের এই আনন্দের খবর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনসহ কলাকুশলীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক জোয়াহের মুসাভভির জ্যোতিও এই স্বীকৃতিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পুরস্কার মানে শুধু একটা স্বীকৃতি নয়। বরং মনে হয়, যে কাজটা ভালোবেসে এবং মন দিয়ে করেছি, সেটাকে কেউ দেখেছে, অনুভব করেছে; এটাই সবচেয়ে আনন্দের। একই সঙ্গে পুরস্কার একটা দায়িত্বও তৈরি করে। মনে করিয়ে দেয়, সামনে আরও ভালো কাজ করতে হবে, আরও মন দিয়ে কাজ করতে হবে। আর আমার কাজ বা এই স্বীকৃতি যদি অন্য কাউকেও ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করে, তাহলে সেটাই হয়তো এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
এদিকে, মোজাইক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জয় করেছে নেপালের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’, যা এর আগে বিশ্বখ্যাত কান উৎসবের ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে জুরি পুরস্কার অর্জন করেছিল।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘রইদ’-এর সাফল্যের যাত্রা এটিই প্রথম নয়। এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিল সিনেমাটি। শুধু তাই নয়, বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ধারাবাহিকতায় আসন্ন অস্কারের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বা ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশ থেকে অফিসিয়ালি জমা দেওয়া হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। ফলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ‘রইদ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রত্যাশাও ক্রমেই বাড়ছে।
গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের পটভূমিতে নির্মিত ‘রইদ’ সিনেমায় অ্যাডাম ও ইভের পৌরাণিক গল্পের আবহকে কাজে লাগিয়ে একটি রহস্যময় ও ভিন্নধর্মী উপাখ্যান ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। গ্রামবাংলার জীবন, মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্ক এবং রহস্যময় এক আখ্যানের মধ্য দিয়ে নির্মাতা সিনেমাটিতে নিজস্ব একটি চলচ্চিত্রভাষা তৈরি করেছেন। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বঙ্গ ও ফেসকার্ড।
নাজিফা তুষি ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।
