মোঃ পারভেজ ঝিনাইদহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠন এবং জামায়াতের প্রতি অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা ও ভিন্নমতাবলম্বীদের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান অভিযোগ করেন, এনসিপির নতুন কমিটিতে ছাগলচুরি, ল্যাপটপ চুরি, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দলটির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখেন কিংবা জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করেন, তাদের পদাবনতি ঘটানো হয়েছে অথবা কমিটিতে রাখা হয়নি। তাঁর দাবি, জামায়াতের অনুমোদনেই এনসিপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়েছিল এনসিপি। কিন্তু গণতন্ত্রের কথা বলা দলটি একটি কাউন্সিল পর্যন্ত না করে নতুন কমিটি করেছে। এর চেয়ে বড় লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে? নতুন কমিটির ধরন দেখে মনে হয়েছে, কিছু আসন ও আসনপ্রতি নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। এনসিপির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান বলেন, দলটি গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ধারণ করে স্বতন্ত্র রাজনীতি করবে, নাকি জামায়াতের আদর্শ ধারণ করে তাদের যুব সংগঠন হিসেবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মতে, যে দলের নিজস্ব আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, সেই দল ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এনসিপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এনসিপি নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দলটি সেই সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। জামায়াতের ছায়াতলে থেকে এনসিপির পক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন হবে। দলটির গঠনতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুই মেয়াদের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের বর্তমান মেয়াদই শেষ মেয়াদ হবে কি না, তা দেখার বিষয়। নতুন বন্দোবস্তের নামে দলটি শেষ পর্যন্ত নতুন ভণ্ডামির পথে এগোচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে রাশেদ খান আরও বলেন, ইসলামের নামে রাজনীতি করে একদিকে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে দলটির গঠনতন্ত্রে ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে নিজেদের ঘোষিত আদর্শ থেকে সরে আসার এই প্রবণতা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার পরিচয় বহন করে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে জামায়াত। একইভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থন পেতে অতীতে হিন্দু মানেই নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানেই দাঁড়িপাল্লা, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিও তিনি এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন। তবে এসব প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মানুষ বিভ্রান্ত হননি বলে দাবি করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। তাঁর মতে, জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন। ঝিনাইদহে এনসিপির সাংগঠনিক অবস্থার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, জেলায় দলটির শক্তিশালী কোনো সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না। এখানে কয়েকজন নেতা থাকলেও উল্লেখযোগ্য কর্মী নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। সব মিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি গঠনকে দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নিজস্ব আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে না পারলে এনসিপির পক্ষে দেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না।
The post এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: রাশেদ খাঁন appeared first on Matrijagat.
