তাজমীনের সেই ‘আঙ্কেল’ কে, হত্যার তদন্তে নতুন প্রশ্ন
কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লার বাসায় ঢুকতে না পেরে গভীর রাতে এক ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল নিহত স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন। কিন্তু সেই ব্যক্তি কে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন। তিনি কি কিশোরীর পরিচিত কেউ, নাকি ‘আঙ্কেল’ পরিচয়ের আড়ালে অন্য কেউ—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একই সঙ্গে হত্যার আগে তাজমীন ধর্ষণের শিকার হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তার সোয়াব ও ব্যবহৃত পোশাকের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক তরুণের সঙ্গে তাজমীনের পরিচয় হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার আগে সে কক্সবাজারে গিয়ে রাজুর সঙ্গে অবস্থান করে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ।
রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হত্যাকাণ্ডের রাতের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার বাসায় ফিরে সদর ফটক বন্ধ পায় তাজমীন। মা-বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে সে এক ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁর বাসায় যাওয়ার কথা জানায়।
রাজুর দাবি, এ সময় ভিডিও কলে তাজমীনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পেয়ে সে বকাঝকা করে। পরে তাজমীন কল কেটে মেসেজে জানায়, সকালে বাসায় ফিরবে। রাজুর ধারণা, তাজমীনের কথিত ‘আঙ্কেল’ পরিচয়ের আড়ালে অটোরিকশাচালকও থাকতে পারে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামে তাজমীন। সেখান থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। অভিযোগ, গন্তব্যে না নিয়ে সে কিশোরীকে লালমাই উপজেলার একটি নির্জন কৃষিজমিতে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি দামি আইফোন নিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় পালিয়ে যায় সুমন। বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার কৃষিজমি থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমন ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, ভুক্তভোগীর সোয়াব, ব্যবহৃত ফোন ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের ফাঁক রাখা হবে না।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, তাজমীন কক্সবাজারে কার সঙ্গে গিয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, তাজমীনের সোয়াব ও পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
