ইন্ডাস্ট্রির দুই বোনের মধ্যে নাকি মনোমালিন্য! ইদানিং টলিপাড়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এমনই ফিসফাস! ইন্ধন জুগিয়েছে চলতি বছরের দুর্গাপুজোও। অন্য বার একসঙ্গে দু’জনের দেখা মিললেও এই বছরের পুজোয় এক জন কলকাতায়, এবং অন্যজন বারাণসী। তাঁরা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
তবে কি জল্পনাই সত্যিই? সত্যিই কি বেড়েছে দুই বোনের দূরত্ব? খবর নিতে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় শুভশ্রীর দিদি দেবশ্রীর সঙ্গে।
হঠাৎ কেন পুজোয় কলকাতা ছেড়ে বারাণসীতে পাড়ি জমালেন তিনি? অবশ্য এর নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং তাঁর পুত্র অনীশ গঙ্গোপাধ্যায়। বারাণসীতে এই প্রথমবার বড় করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছেন তিনিও। তাঁর সংস্থা ‘মায়া ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগেই এই বছর প্রথম দুর্গাপুজো করলেন তাঁরা। সেই সূত্রেই গোটা পুজো দেবশ্রী কাটিয়েছেন সেখানে। কিন্তু দর্শক তো চোখে হারিয়েছেন দুই বোনকে! দেবশ্রী বলেন, “তিন মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পুজোর। সবকিছু হঠাৎ করেই ঠিক হয়েছে। অন্য দিকে বোনও ব্যস্ত তাঁর ছবি নিয়ে। সবমিলিয়েই এই বছর শুভশ্রীর আসা হয়ে ওঠেনি। তবে পরের বছর ও বলেছে নবমীতে আসবে। মায়ের বরণ করবে। বর্ধমানের বাড়িতেও ওকে দিয়েই শুরু হত বরণ। তাই এই বছর না হলেও পরের বছর রাজ (রাজ চক্রবর্তী) এবং দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে আসবে বলেছে শুভ। এমনকি আমার মাসির পরিবারও এই বছরের পুজোয় যোগ দিতে পারেনি।” আপাতত নিন্দকদের জল্পনায় জল। দুই বোনের সম্পর্কের সমীকরণ যে বদলায়নি মোটেও, এ কথা দিদি দেবশ্রীর মন্তব্যেই স্পষ্ট।
বারাণসীতে উদ্যাপন দুর্গাপুজোর
প্রথম বার ছেলের হাত ধরে দুর্গাপুজো। তাও আবার বারাণসীতে। আয়োজন থেকে আরাধনা, সবটাই একা হাতে সামলেছেন বছর ২২-এর অনীশ। মা হিসেবে এমন ছিল সেই অনুভূতি? দেবশ্রীর কথায়, “এ যেন একেবারে রাজ পুজো। সবাই মিলে খুব মজা করেছি। অনেকেই জানেন আমি খুব শিবভক্ত। কাশী বিশ্বনাথের মাটিতে দুর্গাপুজোর অনুভূতিটাই আলাদা আমার কাছে। ছেলে এবং ওর শিষ্যদের নিয়ে একেবারেই যেন বাড়ির পুজো। আমরা আমিষও খেয়েছি। দেবীকে মাছও দিয়েছি ভোগে।”
কলকাতা থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রতিমা। দেবশ্রীর কথায়, প্রতিদিনই দিনের বেলায় ২৫-২৬ রকমের ভোগ নিবেদন করা হয়েছে দেবীকে। সন্ধে হলেও লুচি, সুজি, আলুর তরকারি-সহ অন্য নানা পদ। তিনি বলেন, “নবমীতে চেয়েছিলাম পাঁঠার মাংস রান্না খাওয়ানো হবে। কিন্তু এখানে নবরাত্রির কারণে তা হয়ে ওঠেনি। অষ্টমীতেও দেওয়া হয়েছে চালকুমড়ো বলি। যদিও এই নিয়ম বহু বছর ধরেই মেনে আসছে আমার ছেলে।”
ছেলের এমন উদ্যোগে মা তো গর্বিত বটেই, দেবশ্রীর কথায়, প্রশংসা করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “অনীশ একটি চিঠি লিখেছিল। তা পড়ে বেশ অভিভূত তিনি।”
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।
