
এম. আজগর সালেহী, ফটিকছড়ি (উত্তর): | শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৪
ছবি সংগৃহীত।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানাধীন ৩ নম্বর নারায়নহাট ইউনিয়নের পঞ্চবটি চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার ও বাগানের চিকিৎসককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও বাগানের শ্রমিকদের সহায়তায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে নারায়নহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবটি চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
"আটক ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি স্থানীয়দের,
জামিনে মুক্তি পেলে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা"
সরেজমিনে জানা গেছে, চা বাগানের শ্রমিকদের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাপ্তাহিক বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য সহকারী ম্যানেজার নেপাল কান্তি দাশ ও বাগানের চিকিৎসক ডা. বাবুল দাশ নারায়নহাট কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ব্যাগে নিয়ে বাগানে ফিরছিলেন। বাগানের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ফ্যাক্টরির একটু আগে মসজিদের কাছে পৌঁছালে ওতপেতে থাকা একদল ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় তাদের হাতে ছুরি, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় তাঁরা টাকার ব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আবু তাঁর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বাবুল দাশকে আঘাত করেন। সম্রাট তাঁর হাতে থাকা অস্ত্র নেপাল কান্তি দাশের মাথায় তাক করে ধরেন এবং রাশেদ তাঁদের দুজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।
এ ঘটনায় বাগানের সহকারী ম্যানেজার নেপাল কান্তি দাশ (৬০) ও চিকিৎসক ডা. বাবুল দাশ (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডা. বাবুল দাশকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাগানের ম্যানেজার অর্জুন জানান, সহকারী ম্যানেজার ব্যাংক থেকে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলেন। ওই টাকা পূজা উপলক্ষে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য আনা হচ্ছিল।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও বাগানের শ্রমিকেরা ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে মোহাম্মদ আবু (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি ভূজপুর ইউনিয়নের পাগলিছড়ি এলাকার জালাল আহমদের ছেলে।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিহান (২৬) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। তিনি নারায়নহাট ইউনিয়নের ইদিলপুর টিলাপাড়া এলাকার মাস্টারবাড়ির আবুল হাশেমের ছেলে বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জবানবন্দিতে তাঁদের সঙ্গে রাশেদ ও সম্রাট নামে আরও দুজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। রাশেদ ইদিলপুরের গুন্নারবিল এলাকার বশরের ছেলে এবং সম্রাট উত্তরটিলা এলাকার আইয়ুবের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, রাশেদ ও সম্রাট ছিনতাই করা টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে রাত ৯টার দিকে একই বাগানের পশ্চিম পাশের জঙ্গল থেকে এলাকাবাসী তাঁদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
এদিকে, আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বাগানের শ্রমিকেরা বাধা দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-ডাকাতি, হাইজ্যাক, গরু-ছাগল চুরি থেকে শুরু করে এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করেনি। তাদের অত্যাচার, হুমকি-ধমকি ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। এক কথায় এদের এলাকায় চোর ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই চেনে। এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার এবং চা বাগানের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার পথে বাগানের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়।
পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানিয়েছেন, চা বাগানের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ভূজপুর থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই বিভিন্ন গ্রাম ও সড়কে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনাও বেড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
