কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রিসোর্টে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
রিসোর্টের ইনচার্জ মোহাম্মদ সুমন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর মধ্যে রিসোর্টের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্ট থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরা অংশ নেন।’
অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ঠিক কতজন পর্যটক ছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। আগের রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের রাতে রিসোর্টটিতে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন চেকআউট করে চলে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রকৃতপক্ষে রিসোর্টে কতজন ছিলেন এবং তাদের পরিচয় কী, তা নিশ্চিত করতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
একই পরিবারের আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের কয়েকজনের স্বজন সেখানে আসছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। স্বজনেরা এলে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলোর পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডে আহত সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
তারেকুর রহমান/রিফাত/
